মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও রাজবাড়ীর কেউ এখন আর তা মানছে না। রাজবাড়ী শহর ও এর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মানুষের ভেতর থেকে মাস্ক ব্যবহারে অনিহা দেখা দিয়েছে। ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
এই শীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা। সে কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরার্মশ দিচ্ছে স্বাস্থ্যবিভাগ।
কিন্তু রাজবাড়ীতে এ পরার্মশকে উড়িয়ে দিয়ে যে যার মত করে মাস্ক ব্যবহার না করে চলাফেরা করছে। এব্যাপারে নেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কিংবা মাস্ক ব্যবহারে জনগনকে সচেতন করার কার্যক্রম। মাস্ক ব্যবহার না করাটা একটা ক্ষমতা মনে করছে সাধারণ মানুষ আর এ কারণেই অনেকে মাস্ক ব্যবহার থেকে বিরত থাকছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহর এলাকায় প্রশাসনিকভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে গণপরিবহনগুলোতে সামাজিক দূরত্ব এবং মাস্ক ব্যবহার এখন নেই বললেই চলে। যে যার মতো করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাচল করছে। মাস্ক ব্যবহার করাটা একটা দুর্বলতা মনে করে অনেকেই অনিহা প্রকাশ করছেন।
গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকার জলিল প্রামাণিক বলেন, গরম লাগায় মাস্ক ব্যবহার করতে ভালো লাগে না। মানুষ জন বেশি থাকলে তখন মাস্ক ব্যবহার করি। এখন করোনা ভাইরাস আমাদের এখানে সেভাবে নেই, এটা শহরের বড় লোক-মানুষের অসুখ।
পাংশার সরিষা এলাকার চায়ের দোকানি টোকন বলেন, করি চায়ের দোকান, এমনিতেই সব সময় থাকি আগুনের পাড়ে আবার তাই মাস্ক পড়ি না তবে দোকানে মাস্ক ঝুলানো আছে। আর পুলিশ এখন মাস্ক না পড়লে কিছু বলেনা।
জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আমরা পুনরায় প্রতিনিয়ত মানুষকে সচেতন করতে মাঠে কাজ করবো, সাধারণ মানুষকে মাস্ক ব্যবহারের সুফলের বিষয়টা বোঝাতে হবে। এখন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাস্ক ববহারে অনীহা প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এ রোগ থেকে বাঁচতে প্রথমে নিজেকে সচেতন হতে হবে। তবেই না এ করোনা ভাইরাস থেকে আমরা সুস্থ থাকতে পারবো।
সানবিডি/নাজমুল/০৩:৩৩/১৯.১১.২০২০