
গ্রাহকেরা ব্যাংক শাখায় যাওয়া কমিয়েছেন। এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন করছেন আগের চেয়ে বেশি গ্রাহক। আবার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে সব ধরনের কার্ডের ব্যবহার।
শুধু শহরে নয় এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার কারণে এখন প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মানুষের মাঝেও বেড়েছে ব্যাংকিং লেনদেনর পরিমাণ। গ্রামীণ গ্রাহকেরাও এখন লেনদেন সারছেন বিভিন্ন প্রকার কার্ড ও এজেন্ট মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এর ফলে বর্তমান সময়ে নিজ এলাকায় বসে বড় অঙ্কের আর্থিক চাহিদা মেটাতে পারছেন গ্রাহকেরা। এর সবকিছু সম্ভব হয়েছে হাতের মুঠোয় ব্যাংকিং সুবিধা আসার কারণে।
রাজবাড়ীর দুটি বেসরকারি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কার্ডের মাধ্যমে বেশি লেনদেন হয়েছে। সেটা ডেবিট ও ক্রেডিট—দুটো কার্ডের ক্ষেত্রে। এই সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ব্যবহারও অনেক বেড়েছে। অবশ্য এটা সম্ভব হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য।
রাজবাড়ীতে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এখানে আগে ৩০ শতাংশ গ্রাহক কার্ড ব্যবহার করতেন। এখন ৬০ শতাংশ গ্রাহক ব্যবহার করছেন।
ঘরের কাছে ব্যাংকিং সুবিধা প্রাপ্তি ও সহজলভ্য হওয়ায় গ্রাহকেরা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঝুঁকছেন বলে মনে করেন রাজবাড়ীতে নিয়োজিত ব্যাংক এশিয়ার উর্ধতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, যাঁরা একবার কার্ড ব্যবহার করছেন, তাঁরা বারবার কার্ডেই সেবা নিচ্ছেন। কারণ, এর সুবিধা অনেক বিস্তৃত। আমরাও নিয়মিত কার্ডের পাশাপাশি ব্যাংকিং ক্ষাতে নতুন সুবিধা যুক্ত করছি। এখন লেনদেনের জন্য গ্রাহকদের আর থানা কিংবা জেলা শহরে ছুটতে হচ্ছেনা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সেবা নিতে পারছেন।
এক সময় শহর ব্যতীত এটিএম, পিওএস ও ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন (সিডিএম) দেখা যেত না। কিন্তু বর্তমানে এসে এর সেবা চ্যানেল প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারে বিস্তৃত করা শুরু হয়েছে।
রাজবাড়ীতে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় শীর্ষে রয়েছে বেসরকারি খাতের ডাচ্ বাংলা ব্যাংক। এরপর রয়েছে, ব্যাংক এশিয়া, ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক এবং দি সিটি ব্যাংক। জানা গেছে, গত বছর (২০১৯) পর্যন্ত রাজবাড়ীতে এজেন্ট ব্যাংক ছিল ৫১টি। চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭টি। নতুন করে এজেন্ট ব্যাংক বসেছে ৩৬টি।
রাজবাড়ীতে কর্মরত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যাংকাররা বলছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের শাখা খুলেছে নতুন করে। এ কারণে ব্যাংকের পিওএস বেড়ে গেছে। করোনার প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বর্তমান সময়ে এসে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন (সিডিএম) স্থাপন করেছে। শাখায় ভিড় এড়াতে অনেক ব্যাংক এখন সিডিএম এর পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকের শাখা স্থাপনে জোর দিয়েছে।
রাজবাড়ীতে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৮৫ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। রাজবাড়ীর পাংশার সরিষায় অবস্থিত দুটি এজেন্ট ব্যাংকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। যা থেকে সেবা নিচ্ছেন প্রায় ১ হাজার ৪'শ ২৭ জন গ্রাহক।
ব্যাংকাররা আরো জানান, বিভিন্ন এনজিও-র প্রতারণার কারণে আগে অনেকে গ্রাহক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা নিতে চাইতেন না। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন লেনদেনের জন্য এখন আগের গ্রাহকেরা এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা খুঁজছেন। ফলে এজেন্ট ব্যাংকের ওপর চাপ বেড়েছে।
সানবিডি/নাজমুল