মহামারি করোনার প্রথম দফা সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী যখন লকডাউন চলছিলো তখন ইউরোপের অনেক দেশেই একে একে বন্ধ হয়ে যায় প্রাইমার্কের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র। ব্যবসায় এমন আকস্মিক মন্দার কারণে পোশাক সরবরাহকারী কারখানাগুলোকে দেয়া বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ বাতিল করতে হয় আয়ারল্যান্ডভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানকে, যার ধাক্কা এসে পড়ে দেশের পোশাক রফতানিতে।
মহামারি শুরুর আগে থেকেই ব্যবসা খারাপ যাচ্ছিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ডেবেনহ্যামসের। কভিড এসে আরো নাজুক করে তোলে তাদের পরিস্থিতি। এখন ব্যবসা বিক্রি করে দিতে ক্রেতা খুঁজছে ডেবেনহ্যামস। সেই কারখানাগুলোকে দেয়া পোশাকের ক্রয়াদেশও বাতিল করে তারা, যার মধ্যে বাংলাদেশের অনেক কারখানাও আছে।
কেবল প্রাইমার্ক বা ডেবেনহ্যামস নয়, মহামারীর কারণে ইউরোপ-আমেরিকার আরো অনেক প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ সময় বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ হারিয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। বিজিএমইএর হিসাব বলছে, কভিডের প্রথম ঢেউয়ের প্রভাবে গত বছরের এপ্রিল নাগাদ প্রায় সোয়া তিন বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো বছরের রফতানিতে।
এ ব্যাপারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বিজিএমইএর সংকলন করা পরিসংখ্যান বলছে, সদ্যসমাপ্ত বছরে বিশ্ববাজারে মোট ২ হাজার ৭৩১ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ। যদিও ২০১৯ সালে রফতানি হয় ৩ হাজার ২৯৩ কোটি ডলারের পোশাক। সেই হিসাবে রফতানি কমেছে ১৭ শতাংশ বা ৫৬১ কোটি ডলারেরও বেশি। মূলত কভিডের প্রভাবেই রফতানি এত কমে যায় বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
সানবিডি/এনজে