করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগ
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২১-০১-০৪ ১৪:২২:৪৭

মহামারি করোনাকালীন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যেও যাতে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী থাকে, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম প্রবাসী ও রফতানিকারক; বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়তা ছিল অন্যতম। সরাসরি রফতানিকারকদের নামমাত্র সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে প্রবাসীদের আয়ের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। আবার টাকার মান ধরে রেখেও বাংলাদেশ ব্যাংক রফতানিকারক ও প্রবাসীদের পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, টাকার মান ধরে রাখতে গত বছরের শেষ ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ৫৫০ কোটি ডলার কিনেছে। টাকার অংকে যা প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ডলার কেনা হয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে। যার কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার মানে হেরফের হয়নি।
গত বছরের ১ জুলাই আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার পেতে যেখানে ৮৪ টাকা ৮৫ পয়সা ব্যয় হয়েছে, সেখানে গত ৩১ ডিসেম্বর লেনদেন হয়েছে ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায়।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার না কিনলে এতদিনে প্রতি ডলারের দাম ৮০ টাকার নিচে নেমে যেত। ডলার কেনায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুদও চার হাজার ৩০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ। গত বছর ছিল তিন হাজার ২৫০ কোটি ডলার।
অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, করোনায় ডলারের চাহিদা না থাকলেও প্রবাসী আয় বেড়েছে, তাতে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। ডলারের দাম কমলে শক্তিশালী হতো টাকার মান। কিন্তু তেমনটি ঘটেনি। ডলারের দাম কমে না যাওয়ায় প্রবাসীরা দেশে বানের পানির মতো রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। আর এই রেমিট্যান্সের কারণেই তারল্য সঙ্কট কেটেছে ব্যাংকের।
গত ২০১৯ সালের শেষে এবং ২০২০ সালের শুরুতে ব্যাংকের তারল্যের যে সঙ্কট ছিল তা দূর হওয়াতে ব্যাংক সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা সহজ হয়েছে। এই রেমিট্যান্সে ভর করে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
সানবিডি/এনজে







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













