ওয়ালটন ফেডারেশন কাপে দুর্দান্ত জয়ে ফাইনালে সাইফ

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশ: ২০২১-০১-০৬ ১৯:৩৯:৪৮


বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পশ্চিম গ্যালারিতে একদল দর্শক সারাক্ষণ সাইফ স্পোর্টিংয়ের হলুদ-কালো জার্সি গায়ে মাতিয়ে রেখেছিল গ্যালারি। দিন শেষে সেই উৎসবের বার্তা সঙ্গে নিয়েই বাড়ি ফিরেছে দর্শকেরা। গতকাল বুধবার ২০১৭ সালের রানার্স আপ চট্টগ্রাম আবাহনীকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মত ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠলো সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব।

সেমিফাইনালে এমানুয়েল আরিয়াচুকের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে শেষ করে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে বাকি দুই গোল করেন ইকেচুকু কেনেথ ও ইয়াসিন আরাফাত। খেলার শুরু থেকে চট্টগ্রাম আবাহনীর ওপর চড়াও হয় সাইফ। তারা এগিয়ে যায় অষ্টম মিনিটে। সিরোজুদ্দিন রাখমাতুল্লায়েভের ফ্রি কিকে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের কোনাকুনি ভলিতে গোল করেন এমানুয়েল।

১৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ নষ্ট করে সাইফ। নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড কেনেথের হেড ক্রসবারে লাগে। পাঁচ মিনিট পর আরিফুর রহমানের ব্যাকপাস ধরে সিরোজুদ্দিনের লম্বা শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম আবাহনী প্রতিপক্ষ গোলকিপারকেও বড় কোনও পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ডান দিক থেকে কেনেথের ক্রসে বলে পা ছোঁয়াতে না পারায় আরিফুর সাইফের ব্যবধান দ্বিগুণের দারুণ একটা সুযোগ নষ্ট করেন। তবে ৭১ মিনিটে তারা স্কোর ২-০ করে। আরিফুরের চিপ প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের সাইড ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন কেনেথ।

শেষ দিকে চট্টগ্রাম আবাহনী ১০ জন নিয়ে খেলেছে। আল-আমিনকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন দিদিয়ের। ৭৯ মিনিটে রাকিবের শট ক্রসবারে লাগলে তাদের হতাশা আরও বাড়ে। পরে রাকিব গোলমুখের সামনে বল পেলেও পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। চট্টগ্রাম আবাহনীর জালে শেষ মুহূর্তে আবারও বল ঢোকে। মারুফুল হকের দলকে বড় জয় এনে দিতে ডান পায়ের বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন আরাফাত। এখন পর্যন্ত স্ট্রাইকার ইকুচুকু কেনেথ এখন পর্যন্ত ৫ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এদের সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞ বেলজিয়ান কোচ পল পুটের কৌশল। সব মিলিয়ে দারুণ ছন্দে থাকা সাইফ ফেডারেশন কাপের ট্রফি জেতারও স্বপ্ন দেখছে। এ পর্যন্ত ৫ ম্যাচে সাইফ স্পোর্টিং প্রতিপক্ষের জালে দিয়েছে ১৫ গোল। যেখানে সাইফের আক্রমণভাগ ছিল ধারাল, সেখানে চট্টগ্রাম আবাহনীর ফরোয়ার্ড লাইন নড়বড়ে।

চোটে জর্জর স্ট্রাইকাররা। আগের ম্যাচে কোয়ার্টার ফাইনালে শেখ রাসেলের বিপক্ষে চার স্ট্রাইকার একই সঙ্গে ছিলেন মাঠের বাইরে। সাখাওয়াত হোসেন ও সোহেল রানা চোটের কারণে দর্শক। এছাড়া করোনায় ভুগছিলেন চিনেদু ম্যাথু। অবশ্য কাল করোনা জয় করে ফিরলেও সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি তিনি। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার নিক্সনও খেলার মতো অবস্থায় নেই। ম্যাচে বলতে গেলে এখানেই পিছিয়ে পড়ে চট্টগ্রাম আবাহনী। তবে চেষ্টা করেছেন গত ম্যাচের জয়ের নায়ক মান্নাফ রাব্বি ও রাকিব হোসেন। কিন্তু যতোই ম্যাচের সময় গড়িয়েছে ততোই যেন চাপে পড়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী।

আর সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি তারা। উল্টো ম্যাচের ৭৬ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর মিডফিল্ডার আইভরি কোস্টের চার্লস দিদিয়ের। সাইফের বদলি খেলোয়াড় মিডফিল্ডার আল আমিনকে মারাত্মক ফাউল করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর অধিনায়ক। আঘাতের মাত্রা এত গুরুতর ছিল যে, আল আমিনকে শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবারের ফাইনালে সাইফের প্রতিপক্ষ দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল। বৃহস্পতিবারের সেমিফাইনালে আবাহনী মুখোমুখি হবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের।

 

সানবিডি/নাজমুল