রাজধানীর কলাবাগানে গ্রুপ স্টাডির কথা বলে ডেকে নিয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরের এই ঘটনায় পুলিশ চার তরুণকে আটক করেছে। আটকদের মধ্যে একজনের দাবি, ওই ছাত্রী তার পূর্বপরিচিত।
পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলছাত্রীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। আটক চারজনের মধ্যে এ লেভেল পরীক্ষা দেয়া এক তরুণ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। নিহত ওই ছাত্রী রাজধানীর নামকরা একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ত।
স্কুলছাত্রীর মায়ের দাবি, তার মেয়ের সঙ্গে কারও সম্পর্ক নেই। ধর্ষণের পর তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কলাবাগান থানায় ফোন করে জানায়, এক তরুণ এক কিশোরীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় এনেছেন। কিশোরীর শরীর থেকে রক্ত ঝড়ছে। তখন নিউমার্কেট অঞ্চল পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল হাসান ওই তরুণকে আটকে রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। এরই মধ্যে কলাবাগান থানার পুলিশ আনোয়ার খান হাসপাতালে গিয়ে ওই তরুণকে আটক করে। খবর পেয়ে ওই তরুণের তিন বন্ধু হাসপাতালে গেলে পুলিশ তাদেরও আটক করে। পরে চারজনকে কলাবাগান থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ পরে স্কুলছাত্রীর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশের এসি আবুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক এ লেভেল পরীক্ষা দেয়া ওই তরুণ দাবি করেছেন, মেয়েটি তার পূর্বপরিচিত। বাসার সবাই ঢাকার বাইরে থাকার সুযোগে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপরই মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়লে তিনি তাকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।’
পুলিশের এই কর্তা আরও বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদনে মেয়েটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মেয়েটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হচ্ছে।’
সানবিডি/নাজমুল