

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০১৫ সালটা বাংলাদেশ দলের স্বপ্নের মতো কেটেছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মাশরাফি বাহিনী খেলবে, এটাই হয়তো ওই সময় কেউ ভাবতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। তারপর ঘরের মাঠে টানা চারটি সিরিজ জয়, তাও ক্রিকেট পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে। মাশরাফি বাহিনীর এমন পারফরম্যান্সে দারুণ সন্তুষ্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন।
এ বছর ঘরের মাঠে একের পর এক শক্তিশালী পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে বধ করেছে টাইগাররা। এমন ঈর্ষনীয় সাফল্য বাংলাদেশকে পাইয়ে দিয়েছে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠেয় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণের টিকিট। একই সঙ্গে ২০১৫ বছরটা শেষ করেছে বাংলাদেশ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে থেকে। যা এরআগে কখনোই দেখাতে পারেনি টাইগাররা।
২০১৫ সালে এসব সাফল্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশকে পাইয়ে দিয়েছে শক্ত অবস্থান। শেষ দিনে সফল বছরটার মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ বছরের সামগ্রিক পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ দল অন্যরুপে তুলে ধরেছে।
এ প্রসঙ্গে বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘২০১৫ সালটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য আমি বলব অন্যতম সফল একটি বছর। বিশ্বকাপসহ ঘরের মাটিতে চারটি সিরিজের পারফরম্যান্স বাংলাদেশ দলকে ভিন্ন রুপে ক্রিকেট দুনিয়ায় তুলে ধরেছে। এক্ষেত্রে শুধু জাতীয় দলের পারফরম্যান্সটাই বিবেচনায় রেখে বলা যায় এই বছরটা অত্যন্ত সফল একটি বছর ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ বছর আমরা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে একটা সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি। এছাড়া আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ আমাদের হয়ে গেছে। একই বছরে আমাদের ওয়ানডে অবস্থানটা সাতে চলে এসেছে। এসব ভালো অর্জন।’
শুধু দলগত নয় ব্যক্তিগত সাফল্যেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা একটি স্থান করে নিয়েছে। সাকিব যেমন তিন ফরম্যাটে সেরা হয়েছেন। ঠিক তেমনি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে এসে মুস্তাফিজুর রহমান আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে জায়গা করে নিয়েছেন।
এসব বিষয় প্রসঙ্গে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘ব্যক্তিগত অর্জন তো অনেক আছে। সাকিব তিন ফরম্যাটেই সেরা অলরাউন্ডার হয়েছে। মুস্তাফিজুর রহমানের আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে সুযোগ হয়েছে। সিরিজ জয়ের বিষয়টা তো আপনারা জানেন। পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়। স্বপ্ন যেটা ছিল সেটা অনেকটাই পূরণ হয়েছে।’
বিশ্ব ক্রিকেট মাথা তুলে দাঁড়ানো, ঘরের মাঠে সিরিজসহ বিভিন্ন ইভেন্ট সফলভাবে আয়োজন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলীয় পারফরম্যান্সের কারণে আমাদের সামর্থ্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। গত ২০১৪তে আমরা এককভাবে বিশ্বকাপ টি-২০, এশিয়া কাপটা করেছিলাম। এ বছরও আমরা বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সিরিজ আমরা করেছি। বছরের শেষে বিপিএল আমাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। এটাও আমরা সফলভাবে করতে পেরেছি। তাই আমি মনে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক শক্ত হয়েছে।’