আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশের প্রথম করোনার টিকা নেবেন নার্স রুনু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০১-২৭ ১০:৫৩:৪১


দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ বুধবার। দেশের ইতিহাসে বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম টিকা গ্রহণ করবেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু বেরোনিকা কস্তা।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনের সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বেলা সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু বেরোনিকা কস্তা ছাড়াও আরও দু’জন সিনিয়র স্টাফ নার্স মুন্নী খাতুন ও রিনা সরকারও টিকা নেবেন।

এ ছাড়া চিকিৎসক হিসেবে প্রথম ভ্যাকসিন নেবেনে মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. আহমেদ লুৎফর মবিন। আরও দুই চিকিৎসকের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ভ্যাকসিনেটর হিসেবে ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনা আক্তার ও দীপালি ইয়াসমিনের নাম রয়েছে।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও নার্স এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। প্রথম টিকা গ্রহিতা হিসেবে রুনা বেরোনিকার নাম থাকলেও তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ না থাকলে তালিকার অন্য দুজনের একজনকে টিকা দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে জানতে রুনু বেরোনিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিচালক তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তবে প্রথম টিকা গ্রহিতা হিসেবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অনুভূতি জানাতে রাজি হননি।

জানা গেছে, টিকা গ্রয়োগ কর্মসূচি আরও গতি পাবে এদিনই এই হাসপাতালে সম্মুখ সারিতে থাকা বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিত্বকারী ২৪ জনের একটি দলকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে। সেই তালিকায় চিকিৎসক, নার্স, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, সাংবাদিকসহ অন্য পেশার মানুষ যুক্ত থাকবে। আর কাল বৃহষ্পতিবার এই হাসপাতালের সঙ্গে আরও চারটি হাসপাতালে করোনার টিকা প্রয়োগ শুরু হবে। এগুলো হচ্ছে: ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। এই পাঁচ হাসপাতালের পাঁচ পরিচালক বলেন, তারা টিকা কর্মসূচি চালু করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন, তারা প্রস্তুত।

তবে তাদের কেউ কেউ বলছেন, জাতীয়ভাবে কর্মসূচি চালু হওয়ার পর কিছুটা সমস্যা হতে পারে- যেটা চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছে। তবে সেসব কিছু মাথায় নিয়েই কাজ করছেন তারা। প্রথমদিন যদি সবকিছু ঠিক ভাবে করা যায়, তাহলে মানুষের আস্থা আসবে, ধীরে ধীরে টিকা নিতে মানুষ উদ্বুদ্ধ হবে। এসব হাসপাতালের ৪০০ থেকে ৫০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিন দিয়েই এ কার্যক্রম শুরু হবে-জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে, তাদের মধ্যে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কিনা সেটা দেখা হবে।

 

ইতোমধ্যেই গত ২০ জানুয়ারি ভারত সরকারের উপহার দেওয়া অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড টিকা দেশে এসে পৌঁছায়। গত সোমবার দেশে এসে পৌঁছেছে সরকারের কিনে নেওয়া তিন কোটি টিকার প্রথম ৫০ লাখ ডোজ। এই ৭০ লাখ টিকার ভেতরে ৬০ লাখ টিকা দেওয়া হবে প্রথম মাসে, দ্বিতীয় মাসে দেওয়া হবে ৫০ লাখ, তৃতীয় মাসে দেওয়া হবে আবার ৬০ লাখ। প্রথম মাসে টিকা পাওয়াদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে তৃতীয় মাসে। আর এ হিসাবে টিকা বিতরণ পরিকল্পনা ইতোমধ্যে করা হয়ে গেছে। কিনে নেওয়া টিকা দেশে আসার পর ঢাকা থেকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস চুক্তি অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলাতে টিকা পৌঁছে দেবে।

টিকা নেওয়ার প্রস্তুতি মোটামুটি ভালোই, সবকিছু প্রস্তুত হচ্ছে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক। টিকা নেওয়ার জন্য কতজন স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও সেভাবে ফাইনাল করিনি, তবে পরিকল্পনা রয়েছে ১০০ জনের মতো স্বেচ্ছাকর্মীকে দিতে পারা যায় না, সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের অনেক চিকিৎসক আগ্রহী প্রথম দিনেই টিকা নিতে। তবে আমি নিজে হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে প্রথম টিকা নিতে আগ্রহী-আমার কলিগদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে, উৎসাহ দেওয়ার জন্য, আস্থা জোগাতে। এ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, টেকনোলজিস্ট,আনসারসহ সব বিভাগের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই ১০০ জনকে বাছাই করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিচতলাতে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য বুথ চালু করা হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, এখানে টিকা দেওয়ার পর পর্যবেক্ষণ করা হবে। সেজন্য ‘পোস্ট ভ্যাকসিন এরিয়া’ প্রস্তুত করা হয়েছে, সেখানে পর্যবেক্ষণ করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আমিন জানান তার হাসপাতালের প্রস্তুতির কথা। আমাদের প্রিপারেশন অলমোস্ট আমরা শেষ করে ফেলেছি’। তিনি জানান, ২৪ জানুয়ারি এ হাসপাতালে এই টিকাদান কর্মসূচি কিভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে একটি মিটিং হয়।

টিকা প্রয়োগে ঔষধ অধিদপ্তরের অনুমতি: টিকা ব্যবহারের উপযোগিতা সনদ দিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এর ফলে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে দেশে আসা ৫০ লাখ টিকা প্রয়োগে আর কোনো বাধা থাকল না। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মহাখালীতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান জানান, ভারত থেকে আসা টিকার প্রতিটি লটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এই টিকা দিয়েই বাংলাদেশে শুরু হবে কোভিড-১৯-এর টিকাদান প্রক্রিয়া।

করোনার টিকা প্রয়োগ কেন্দ্র দেখাবে গুগল ম্যাপস: শিগগিরই গুগল ম্যাপসে করোনার টিকাদান কেন্দ্রের অবস্থান দেখানো শুরু হবে। সঙ্গে থাকবে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক তথ্য। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সুবিধাটি ছাড়া হবে। এরপর ক্রমে তা অন্যান্য দেশেও পাওয়া যাবে। চলতি বছরের শুরুর তুলনায় এ কয়েক দিনে ‘নিকটস্থ টিকা’ খোঁজার হার বেড়েছে পাঁচ গুণ।