শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুর অঞ্চলে ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে শীত জনিত শ্বাসকষ্ট, নিমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাপানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আক্রান্তের মধ্যে শিশুরাই সবচাইতে বেশি। ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে মারা গেছে ১৯ জন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীত জনিত নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ জানুয়ারী পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার দুইশত ২১ জন শিশু। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১ শত ৩৪ জন, সেচ্ছায় চলে গেছে ২ শত ৭ জন এবং অন্যত্র বদলী হয়েছে ৪৯ এবং মারা গেছে ১৯ জন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবা তত্তাবধায়ক মোসলেমা খাতুন জানান, ২১ জানুয়ারী থেকে ২৭ জানুয়ারী পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি শিশুদের মধ্যে যে ১৯ জন মারা গেছে তাদের মধ্যে শ্বাকষ্ট, ডায়রিয়া, নিমোনিয়া, ওজনকম,ইনফেকশনে আক্রান্ত শিশুরা রয়েছে।
সেবা তত্তাবধায়ক জানান, সাধারণত শীতকালে শিশুরা এইসব রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চল থেকে আসা রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। মারা যাওয়া শিশুদের মায়দের অসচেনতা, অপুষ্টি, গর্ভকালীন আঘাসহ বিভিন্ন কারনে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। তিনি মায়েদের আরো সর্তক হওয়ার আহবান জানান।
অপরদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে আগুন পোহাতে গিয়ে জানুয়ারী মাসের শুরু থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। বর্তমানে হাসপাতালের বার্ণ ইউনিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ভর্তি আছেন ১৮ জন রোগী। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশংকা জনক। এদের কারো কারো শরীরের ৮০ শতাংশ কারো কারো ৪০ পুড়ে গেছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের প্রধান ডা. পলাশ জানান, অগ্নিদ্ধদের মধ্যে মহিলা, শিশুর সংখ্যা বেশি। যার বেশিরভাগ সনাতন ধর্মের বলে তিনি জানান।