

চাকুরি আর সোনার হরিণ পাওয়া এক কথা। আর এই সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে গিয়ে অনেক লোকই প্রাণ হারিছে। যার বাস্তব প্রামাণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী তানজিনা আক্তার সুক্তি। চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার মৃত্যুর চার মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পত্র তার হলের ঠিকানায় আসে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় তাকে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। কাগজ পত্র বাছাই করার পর সব ঠিক থাকলে তিনি ভাইভা পরীক্ষায় শেষে চাকরির সুযোগ পেতেন। কিন্তু আত্মহত্যা করায় তানজিনা সেই সুযোগ চিরদিনের জন্যই হরিয়েছেন।
গত ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা হলের ২৩৬ কক্ষের ঠিকানায় এ চিঠি আসে। এ সময় হলের কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের মন বিষাদে ছেয়ে যায়।
ঐ হলের বর্তমান ছাত্রী সাগরিকা মিতি জানান, আপু ৩৫ ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আমার পাশের রুমেই থাকতেন। রুম নং ২৩৬। অনেকদিন থেকেই চাকরির জন্য খুব চেষ্টা করছিলেন। বিভাগে তার রেজাল্টও ছিল খুব ভালো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার (জেনারেল সাইড) বিভাগের এই পত্র পান সুক্তি। এতে আগামী ৬ জানুয়ারীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সনদ নিয়ে প্রধান কার্যালয়ে যেতে বলা হয়।
মিতি আরও জানান, সুক্তি আপুর খুব জেদ ছিল। বড় কোনো চাকরি করবেন। অনেক বড় অফিসার হবেন। কিন্তু তাকে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছিল।
হল সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি একটি চিঠি আসে। সেই চিঠি হলের অফিস সহকারী সুক্তিকে দিতে যান। পরে জানতে পারেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন চাকরি না পেয়ে। হলের শিক্ষার্থীরা বলেন, এই চিঠি আর চার মাস আগে আসলেই সুক্তিকে ‘খুশিতে ফেটে পড়তে দেখতাম হয়ত’।
তানজিনা সুক্তি গত ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিশ মাইল এলাকার ভাড়া বাসায় বিষপানে আত্মহত্যা করেন। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার চার বছর পরও চাকরি না পেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস