

দীর্ঘদিন পর হলেও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে খুব শিগগিরই। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এবার সবাইকে ‘খুশি’ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ড সোচ্চার। অতীতের তুলনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার হবে প্রায় তিন গুণ।
ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও আরো কয়েকটি ইউনিটে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। সেইসাথে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলকে চারভাগে ভাগ করা হবে। ফলে পূর্ব ও পশ্চিম নামে নতুন দুইটি শাখা হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কলেজগুলোকে মহানগরীর অধীনে না রেখে কেন্দ্রীয় কমিটির অধীনে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের শেষ বা আগামী সপ্তাহের যে কোনোদিন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বাংলা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়; ঢাকা জেলা এবং গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখার কমিটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ এবং ঢাবি, জবি ও মহানগরের কমিটি ঘোষিত হওয়ার পর এসব কমিটি ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি এবং মো. আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫৩ সদস্য বিশিষ্ট (আংশিক) কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ২০১ সদস্যবিশিষ্ট হবে বলে সে সময় জানানো হয়। কিন্তু সোয়া এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি ছাত্রদল।
এরআগে, ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দেিণর সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষিত হয়। এসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তা এখনো বহাল রয়েছে। যদিও এসব কমিটি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। এমনকি গতবছর কমিটি গঠনের ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান না পেয়ে তা বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনে নামে পদবঞ্চিত নেতারা। একপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার খালেদা জিয়ার আশ্বাসের প্রেেিত তারা আন্দোলন স্থগিত করেন। তাদের আশা, ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডন যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু তার আগেই গুলশান কার্যালয়ে বেগম জিয়ার কাছে কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ ও বাকি ইউনিটগুলোর প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেয়া হয়। বেগম জিয়া ওই কমিটিগুলো নিয়ে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা করেন। গত ২১ নভেম্বর খালেদা জিয়া দেশে আসার পর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাাৎ করেন। এ সময় খালেদা জিয়া তাদেরকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে ফের কমিটি জমা দিতে বলেন। অতপর খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফের ‘চূড়ান্ত’ কমিটি জমা দেন। একইসঙ্গে লন্ডনে তারেক রহমানের কাছেও এসব কমিটি পাঠানো হয়।
সূত্রমতে, ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির আকার চার শতাধিক ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংগঠনটির বিরাজমান সকল গ্রুপকে অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে কমিটির কলেবর বড় হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলন করা বিদ্রোহীদের অনেককে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে দুটি সম্পাদকীয় পদ, সহ-সম্পাদকের সকল পদ এবং সদস্যদের পদ খালি রয়েছে। ফলে সব পদেই ৫ বা ৭ জন করে নতুন পদ বৃদ্ধি করা হবে।
দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও যারা পদ পাননি তাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার বাড়ানো হচ্ছে। যাতে করে সবাইকে পদ দিয়ে খুশি করা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। হল কমিটির আকার ১২-১৫ সদস্য বিশিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বাড়তে পারে ঢাবি কমিটির পরিধিও। তবে ঢাবির কমিটি পূর্ণাঙ্গ নাকি আহ্বায়ক হবে, সেটা নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও বিএনপির হাইকমান্ডের মাঝে আলোচনা চলছে।
সিনিয়র নেতারা তুলনামূলক জুনিয়রদের সমন্বয়ে ঢাবির কমিটি করতে চায়। ২০০২-০৩ বা ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সবাইকে মূল্যায়ন করে ঢাবিতে আহ্বায়ক কমিটি দেয়ার পরে তারা ২০০২-০৩, ২০০৩-০৪ ও ২০০৪-০৫ সেশনের শিার্থীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনে আগ্রহী।
ছাত্রদল সূত্র জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কলেজগুলো অতীতে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ শাখার অধীনে কাজ করতো। কিন্তু সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এবং শৃঙ্খলার জন্য সেই কলেজগুলোকে কেন্দ্রীয় সংসদের অধীনে রাখার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এতে করে রাজধানীর অন্যতম পুরনো ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ, মিরপুর বাংলা, তেজগাঁও সরকারি কলেজগুলো কেন্দ্রের আওতায় থাকবে।
আগামীদিনে রাজধানীতে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম সফলের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরকে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম-এই চারভাগে ভাগ করে ছাত্রদলের কমিটি দেয়া হবে। মহানগর উত্তর ভেঙ্গে উত্তর ও পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভেঙ্গে দক্ষিণ ও পূর্ব করা হয়েছে। কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জানতে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে মোবইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রদলের কমিটি গঠন প্রসঙ্গে সংগঠনের সহসভাপতি নাজমুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক বিলম্ব হলেও কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।
সানবিডি/ঢাকা/রাআ