

চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজারে। সবচেয়ে খারাপ পরিণতি লক্ষ্য করা গেছে চীনের বাজারে। ব্যাপক দরপতনের কারণে আজ সোমবার পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সিএনএন, বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এদিন চীনের বেঞ্চমার্কে সাংহাই কম্পোজিট সূচক ৬.৯ শতাংশ পড়ে যায়। অন্যদিকে বড় বড় কোম্পানির শেয়ার সূচক সিএসআই৩০০ কমে যায় ৭ শতাংশ। এদিকে প্রযুক্তি খাতে নেতিবাচক প্রবণতার মধ্যে ডানা মেলতে পারেনি আরেক সূচক শেনজেন কম্পোজিট। এ সূচক আজ ৮ শতাংশেরও বেশি পতনে যায়।
এর আগে গত বছরের জুলাইতে বড় ধরনের ধসের মুখে পড়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশের পুঁজিবাজার। একদিনেই সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কম্পোজিট ইনডেক্স প্রায় ৬ শতাংশ কমে যায়। ওই সময় টানা ৩ সপ্তাহে সূচক কমে প্রায় ৩০ শতাংশ।
বিবিসি জানায়, পুঁজিবাজারে সূচক ৫ শতাংশ পতনে যাওয়ার পরই লেনদেনের শুরুর দিকে এদিন ১৫ মিনিট ধরে বাজার ‘হল্টেড’ হয়। কিন্তু তারপরও শেয়ারের দরপতন অব্যাহত ছিল; যা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আজকের মতো বাজার বন্ধ করতে বাধ্য করে।
এদিকে বিশ্ব বাজারে নেতিবাচক প্রভাব থাকায় ভারতের বাজারেও এই প্রভাব পড়তে দেখা যায়। একদিনেই দেশটির পুঁজিবাজারে সেনসেক্সের পতন হয় ৫৩৮ পয়েন্ট; যা গত ৩ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়াও সদ্য শেষ হওয়া ডিসেম্বরে ভারতের উৎপাদন খাতের দুর্বল প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে দুর্বল রুপির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে।
আজ সোমবার লেনদেনের শুরুতে সেনসেক্স ১৯০ পয়েন্ট হারিয়ে বাজার শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা ও ২.০৬ শতাংশ বা ৫৩৮.০৩ পয়েন্ট কমে ২৫ হাজার ৬২২.৮৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। তবে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের আরেক সূচক ৩০ শেয়ার ইনডেক্স এদিন প্রায় ২০১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এতে করে এ সূচক গত দুই কার্যদিবসের খরা কিছুটা কাটিয়ে উঠে।
ভারতের বাজারে এদিন লুজারে থাকা কোম্পানিগুলো হলো টাটা মোটরস, ভারতি এয়ারটেল, আদানি পোর্ট, এইচডিএফসি, ভেল লুপি, আইসিআইসিআই ব্যাংক, এসবিআই, আরআইএল, সান ফার্মা, এক্সিস ব্যাংক, গেইল, হিরো মটোকর্পোরেশন, এলএন্ডটি, কোল ইন্ডিয়া, এমএন্ডএম, ইনফয়েজ এবং টিসিএস।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হচ্ছে, জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জে নিফটি সূচকও এদিন পড়েছে ১৬৪.৪০ পয়েন্ট। ব্রোকাররা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি উত্তেজনা ও চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে আজ বিশ্বের প্রধান প্রধান পুঁজিবাজারগুলোতে বিক্রি কমে যায়। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্য চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাপানের বেঞ্চমার্কে নিক্কেই সূচক এদিন ৩.০৬ শতাংশ কমেছে। লেনদেনের শুরুতে ইউরোপের বাজারও ছিল নিম্নমুখী।