ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে গভর্নর ফজলে কবিরের শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০২-২৪ ২১:৫৪:০৬


প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব ফজলে কবির।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ শোক প্রকাশ করেন তিনি। শোকবার্তায় তিনি বলেন, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আর্থিক খাতের সংস্কার ও উন্নয়ন সাধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সমগ্র ব্যাংক পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করছে। আমরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

এরআগে আজ বুধবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন।

চলতি মাসের শুরুতে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হলেও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেননি তিনি। সকাল ১১টায় কচিকাঁচার মেলার প্রাঙ্গনে এবং বাদ যোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের  জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৪১ সালে গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে স্নাতকোত্তর করার পর আইবিএ থেকে এমবিএ করেন। ১৯৬৩ সালে যোগ দেন ব্যাংকিং পেশায়।

২০১১ সালে বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে। ব্যাংকিং ও অর্থনীতি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে ২০০৯ সালে ‘খান বাহাদুর আহছানউল্লা স্বর্ণপদক’ ও ২০১৩ সালে ‘খান বাহাদুর নওয়াব আলী চৌধুরী’ জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০০০ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার পরিচালক, নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।