প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে বৈষম্য থাকছে না

প্রকাশ: ২০১৬-০১-০৫ ১৭:৩৫:০৬


Govtসরকারি প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে অষ্টম বেতন কাঠমোতে সৃষ্ট বৈষম্য থাকছে না। বিসিএস ক্যাডার ও ননক্যাডার অষ্টম গ্রেড পাবেন। তবে সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদ বাদে নবম ও পুলিশের ওসি ৯ম  গ্রেড পাবেন। এ বিষয়ে শিগগিরই স্পষ্টকরণ ব্যাখ্যা দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনির্ধারিত অলোচনার পরপরই পে-স্কেল বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টদের সচিবদের সঙ্গে বসে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ২৬ ক্যাডার, প্রকৗশলী, কৃষিবিদ চিকিৎসকদের (প্রকৃচি) সঙ্গে আলাদা বসে সমস্যা ত্বরিত সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।

একজন সিনিয়র মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনির্ধারিত আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সরকার নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের  শতভাগের বেশি বেতন বৃদ্ধি করার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ২৬ ক্যাডার, প্রকৃচি নানা বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করছে। প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ক্যাডার আর ননক্যাডার নবম গ্রেড পাবেন। এক্ষত্রে ক্যাডার ননক্যাডার বৈষম্য স্পষ্ট।

বাণিজ্যমন্ত্রীর কথার রেশ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিকে এসব বিষয় সুরাহা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। আপনারা (মন্ত্রীরা) কি করলেন।

ওই কমিটিতে থাকা এক মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অন্যদের সঙ্গে বসেছি। তারা ছাড় দিতে না চাইলে কিছু বিষয়ে আমরা সম্মত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটি তারা মেনে হাসি মুখে বেরিয়েও গেছেন। কথা ছিল এ নিয়ে চূড়ান্ত বৈঠক হবে। সেই বৈঠক না করেই অষ্টম পে-স্কেলের গেজেট জারি করল অর্থ মন্ত্রণালয়। গেজেটে সিদ্ধান্তের অনেক বিষয়ে প্রতিফলন ঘটেনি। সমঝোতার বিষয়গুলো অ্যাড্রেস করা হলে আন্দোলনে যেতেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কেন হলো? ওই কমিটির মিটিংয়ে কোন কোন সচিব ছিলেন তাদের নাম বলেন। বৈঠক এখানেই শেষ এখন আমি সচিবদের সঙ্গে বসব। তাদের বক্তব্য শুনব।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা সচিব হতে চান আমি তা করব। তবে তাদের বয়স ৬৫ বছরের পরিবর্তে সচিবদের মতো ৫৯ বছর করব। তারা ৯টা-৫টা অফিস করবেন। কনসালট্যান্সি করতে পারবেন না।

শিক্ষকের মর্যাদার কথা বলে তিনি বলেন, প্রফেসর আনিসুজ্জামান বড়, না সচিব বড়। আনিসুজ্জামান স্যার তো আনিসুজ্জামানই, তার সঙ্গে কোনো সচিবের তুলনা হয় না। শিক্ষকরা যখন সচিব হতে চান তাই করব। আপনি (শিক্ষামন্ত্রী) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এটা বলবেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সঙ্গে বসেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদসহ আরো দুই সচিব ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত সভা কমিটিতে নেয়া সমঝোতার সব সিদ্ধান্তগুলো গেজেট না আসার কারণ জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে অর্থ সচিব বলেন, গেজেট প্রকাশে কিছু ভুল হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তা স্পষ্ট করা হলো না কেন? এরপর পে-স্কেলে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা সরকারি চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে বিসিএস ক্যাডার অষ্টম গ্রেড আর নন-ক্যাডার নবম গ্রেড প্রদান, ক্যাডার, নন-ক্যাডার ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্যের বিষয়টি তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা ব্যাখ্যায় বলা হয়, সরকারি প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে বিসিএস ক্যাডার অষ্টম গ্রেড ও ক্যাডার না পাওয়া কর্মকর্তাদের নবম গ্রেড, পুলিশে নন-ক্যাডার নবম, সেনাবাহিনীতে নন-ক্যাডার পদে নবম গ্রেড পাবে। এছাড়া অন্য ক্ষেত্রে নন-ক্যাডার চাকরিতে অষ্টম গ্রেড পাবেন। জারি করা পে-স্কেলে এসব স্পষ্ট বলা হয়নি। ফলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

এসব বিষয় খোলাসা করে অর্থ মন্ত্রণালয়কে স্পষ্টকরণ ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ আন্দোলনরতদের (২৬ ক্যাডার, প্রকৃচি) সঙ্গে আলাদা বসে সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে অর্থ সচিবকে নির্দেশ দেন তিনি। এসব আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদকে রাখতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সানবিডি/ঢাকা/মানবকণ্ঠ/এসএস