যশোরে আজ রাতে ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে তিন জনের

প্রকাশ: ২০১৬-০১-০৭ ১২:০৫:৩০


কাজী আরেফ
কাজী আরেফ

কাজী আরেফ হত্যাকারী তিন জনের ফাঁসি কার্যকর হতে যাচ্ছে আজ রাতে। এ জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। যে তিনজনের ফাঁসি কার্যকর হতে চলেছে, তাঁরা হলেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের রাজনগর গ্রামের হাবিবুর রহমান, কুর্শা গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও রাশেদুল ইসলাম।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফ আহমেদসহ দলটির পাঁচ নেতা হত্যা মামলার তারা আসামি। এ মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া নয়জনের মধ্যে পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। একজন কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এ ফাঁসি কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক শাহজাহান আহমদ জানান, ‘ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত। যেকোনো সময় ফাঁসি কার্যকর করা হবে। ওই তিনজনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হয়েছে।’ তিনজনের পরিবার ও মিরপুর থানার ওসি কাজী জালাল উদ্দীন জানান, কাল শুক্রবার সকাল সাতটায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনটি পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত হয়ে তাঁদের ওই তিন স্বজনের মরদেহ গ্রহণ করতে বলেছে যশোর কারা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ফাঁসি কার্যকর হতে যাওয়ার খবরে খুশি নিহত নেতাদের পরিবার ও জাসদের নেতা-কর্মীরা। জাসদের নিহত নেতা এয়াকুব আলীর ছেলে ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমার বাবাসহ যাঁরা সেদিন নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছিলেন, তাঁদের খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হবে জানতে পেরে আমরা খুব খুশি। ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশা করছি।’

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি রাশেদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি রাশেদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন

১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভা চলছিল। এ সময় একদল সন্ত্রাসী গুলি চালালে ঘটনাস্থলে নিহত হন কাজী আরেফ আহমেদ, তৎকালীন জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরায়েল হোসেন ও শমসের মণ্ডল। ওই দিনই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামির ফাঁসি ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্ট নয়জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন, একজনকে খালাস দেন ও ১২ জনের সাজা মওকুফ করেন। এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিদের দুজন রাশেদুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। পরে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া নয়জনের সাজা বহাল রাখেন। এই নয়জনের মধ্যে পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। একজন কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এখন বাকি তিনজনের ফাঁসি কার্যকর হতে যাচ্ছে।