

ইসলামী নীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে উৎপাদিত যৌনসামগ্রী বিক্রির জন্য একটি সৌদি আরবে সেক্স শপ শুরু হচ্ছে। মুসলীম প্রধান দেশে এরকম শপ চালু এটাই প্রথম ঘটনা। এই ঘটনায় নিয়ে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার ভেরিফাইড ফেসবুকের সাম্প্রতিক এক স্ট্যাটাসে বিতর্কের ঝড় তুলেন।
তসলিমার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো:- গতকাল (২০ এপ্রিল'২০১৫) আরব দেশে একটা খবর বেরিয়েছে, সৌদি আরবে সেক্স শপ শুরু হচ্ছে। হাবিজাবি সেক্স শপ নয়, হালাল সেক্স শপ। সেক্স শপ হালাল কখন হয়, আর হারাম কখন হয়, তা আমার জানা নেই। আমার এও খুব জানার ইচ্ছে, সেক্স শপে গিয়ে একা একটা মেয়ে কিছু কিনতে পারবে কিনা, এই ধরুন ডিলডো টিলডো। নাকি সেক্স শপ শুধু পুরুষের জন্য! সৌদি পুরুষদের দেখেছি, মেয়েদের দিয়ে অশ্লীল নাচ নাচায় আর শরীরে টাকা ছুড়ে ছুড়ে মারে।
পত্নী তো আছেই, সৌদি পুরুষরা যত খুশি উপপত্নী রাখতে পারে, এখন থেকে সেক্স শপও তাদের আরও যৌন-আরামের ব্যবস্থা করবে। বেহেস্ততো ওরা এক রকম তাহলে একালেই বানিয়ে নিচ্ছে। পরকালে যে পার-হেড ৭২টা হুরীর ব্যবস্থা করে রেখেছেন আল্লাহ তায়ালা, সেগুলোর কী হবে! বেহেস্তের হুরীদের সঙ্গে গ্রুপ সেক্সে যাওয়ার লোভটা যদি ইহকালের রমণী নিয়ে গ্রুপ সেক্স করতে করতে অনেকটা হৃাস পায়!
তবে তো ধর্মবাণিজ্য বিনোদনবাণিজ্যের কাছে বিরাট একটা মার খেয়ে যাবে! জার্মানির বিয়াটে উসে অনেকটা ইহকালের আল্লাহস তায়ালা। পাবলিককে যৌন সুখ দেওয়ার সব রকম ব্যবস্থা করে রেখেছে, তবে কড়ি ফেলতে হবে আগে। আল্লাহ তায়ালাও কড়ি চান, তবে বিয়াটের মতো অত সরাসরি নয়। একটু ঘুরিয়ে। যে যত মসজিদে দান করবে, যে যত হজ্জ উমরা করবে, সে তত নেকি কামাবে। নেকি কামালেই তো হুরির সঙ্গে সেক্স করার টিকিট মিলবে।
বার্লিনে বিয়াটের সেক্স মিউজিয়াম দেখেছিলাম আজ প্রায় কুড়ি বছর আগে, সে-ই আমার প্রথম কোনও সেক্স মিউজিয়াম দেখা। তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলাম। এরকমও যে কিছু জিনিস হতে পারে, আমার কল্পনার মধ্যেও ছিল না। এখন, ইউরোপ-আমেরিকা থেকে সেক্স শপ এশিয়ার সবগুলো দেশে এলো না, লাফ দিয়ে চলে গেলো পৃথিবীর সবচেয়ে রক্ষণশীল দেশে। যেখানে চলমান যৌনাঙ্গ ছাড়া আর কিছু হিসেবে মেয়েদের দেখা হয় না।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস