বঙ্গবন্ধু সেতুতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভূমিমন্ত্রীর ছেলে নিহত
প্রকাশ: ২০১৬-০১-০৯ ১৬:১৪:২০

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর শনিবার এক দুর্ঘটনায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে শরীফ রানা (৩৫) নিহত হয়েছেন। মাইক্রোবাসে করে ঢাকা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন বলে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার (৯ জানুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর পাঁচ সদস্যসহ কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে সেতুর পূর্ব প্রান্তে ৩০ ও ৪০ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি স্থানে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
শরীফ রানা ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান ডিলুর মেঝ ছেলে। মন্ত্রীর পাঁচ ছেলে পাঁচ মেয়ের মধ্যে রানা চতুর্থ এবং ছেলেদের মধ্যে মেঝ। শনিবার সকালে স্ত্রী ও অন্য দুজনকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রানা ঢাকা যাচ্ছিলেন। নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার সময় সকালে এর আগেই যাওয়া দুর্ঘটনাস্থলে কুয়াশায় তাদের গাড়ি আটকে যায়। সে সময় পেছন থেকে আসা আরেকটি গাড়ি জোরে মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয় এবং গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতলে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ১১.৩০ টায় শরীফ রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। রানার মরদেহ নিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল থেকে দুপুর ১ টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীর দিকে রওনা দেন স্বজনরা। ঈশ্বরদীর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, ভূমিমন্ত্রীর এপিএস বশির আহমেদ বকুল, মরহুমের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজন সঙ্গে রয়েছেন। শরীফ রানার এক ছেলে রয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) সহকারী প্রকৌশলী ওয়াসিম আলী জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে সেতুর পূর্ব প্রান্তে ৩০ ও ৪০ নং পিলারের মাঝামাঝিতে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটে। পাবনা থেকে ঢাকাগামী সরকার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সেতুর ওপর ঢাকাগামী একটি গরুর ট্রাককে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর আরও দুটি বাস ও মাইক্রেবাস দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও ট্রাকের পেছনে ধাক্কা খায়।
এসময় চার বাসযাত্রী নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। প্রথম দুর্ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণ করতে না করতেই এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের পশ্চিম পাড়ে সেতুর ওপর ৩০ থেকে ৩২ নং পিলারের মাঝামাঝিতে ঢাকাগামী হানিফ, ন্যাশনাল পরিবহন, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সসহ আরও ১৬টি যানবাহন পর পর ধাক্কা খায়। এসময় ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শরীফ রানাসহ আরও পাঁচজন নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৫ জন।
নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জও টাঙ্গাইল জেলা সদরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি আখিরুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে চারজনের লাশ সেতু পূর্ব থানায় এবং দুই জনের লাশ টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে রয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের উপ-তত্ত্বাবধায়ক নুরল ইসলাম জানান, আহত ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আশরাফ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৩০ জনকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। এদের মধ্যে অজ্ঞাত দুই রোগী চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণে সকাল থেকেই সেতুর দুই পাশেই যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ও যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল ১১ টার পর কিছুটা যানজট ট্রাফিক ও সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আসলেও দিনভরই যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সানবিডি/ঢাকা/আহো







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













