
বিশ্ব ইজতেমা। বাংলাদেশে তো বটেই, বলা হয়ে থাকে হজের পর সারা বিশ্বের মধ্যে এটিই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সম্মিলন। গতকাল শুক্রবার ফজরের পর আম বয়ানের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া এই সম্মিলনের প্রথম পর্ব শেষ হচ্ছে আজ রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে। আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে যেকোন সময়ে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দিন জানান, দিল্লীর মাওলানা সাদ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি।
গত বছরগুলোতে ইজতেমায় ব্যাপক জনসমাগমের অভিজ্ঞতায় এবার থেকে দুই বছরে চার ভাগে তাবলিগ সদস্যদের জন্য ইজতেমায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে (সাধারণ মুসল্লিদের জন্য নয়)। ফলে এবারের ইজতেমার প্রথম পর্বে দেখা গতবারের চেয়ে ভিড় তুলনামূলক কম; যদিও তা কয়েক লাখের বেশি।
শনিবার ইজতেমার দ্বিতীয় দিনটি ছিল কুয়াশামাখা। শীতের তীব্রতা কম থাকলেও ইজতেমা প্রাঙ্গণ ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। আজও একই অবস্থা। ৯ টা পর্যন্ত সূর্য, দেখা যায়নি। এর আগের দিনের মতোই ফজরের নামাজের পর বয়ানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনটি। মুসল্লিরা নিজ নিজ খিতায় বসে বয়ান শুনতে শুরু করেন। এরপর জোহরের পর ভারতের মাওলানা মো. জামসেদ, আসরের পর মাওলানা মো. ইউসুফ আলী বয়ান করেন। মাগরিবের নামাজের পর ভারতের খোরশেদ আলম বয়ান করেন।
শুক্রবারের মতো শনিবারও দেখা যায় লাখো মুসল্লি বয়ান শুনতে আসেন তুরাগ তীরে। বিকেলের দিকে জনস্রোত আরো বাড়তে থাকে। মানুষের ঢল আজ আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত চলছে। রাতেও অনেক জায়গা থেকে মুসাল্লীদের আসতে দেখা গেছে।
এবারের ইজতেমায় দেশের ১৭টি জেলার মুসল্লিদের পাশাপাশি ৯৫টি দেশের ৭ হাজার ১৫২ জন বিদেশিও অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার সকালের দিকে এই বিদেশিদের তাঁবুতে রন্ধনালায় গ্যাস সঙ্কট দেখা দেয়ার কারণে তার রান্নার কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হয়।
বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে মুসল্লিদের সুবিধার্থে শুক্রবার থেকেই শুরু হয় ট্রেন ও বিআরটিসি বাসের স্পেশাল সার্ভিস। স্পেশাল এই সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে- স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় লাখ অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে ২৮টি ট্রেন এবং বিআরটিসির ২২৮টি বাস। ২৮টি ট্রেনের সঙ্গে ২০টি অতিরিক্ত কোচও সংযোগ দেয়া হয়েছে।
ইজতেমার প্রথম দুই দিনে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে; যাদের বেশিরভাগেরই মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ।
ইজতেমার মুরুব্বিদের দেয়া তথ্যমতে, ১৯৪৬ সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমার আয়োজন শুরু করা হয়। তারপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সালে ইজতেমার জন্য গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে নির্ধারণ করা হয়। পরে সরকারিভাবে তুরাগ তীরের ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।