

রোববার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন ও আল্টিমটাম দেওয়া হয়।
অভিভাবক ফোরামের সদস্য শামিমা সুলতানা সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি বছর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের টিউশন ফি প্রায় দ্বিগুন করা হয়েছে কোনো রকম নোটিশ ছাড়াই। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো সমাধান করা হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্ধিত বেতন প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি রাজধানীর আইডিয়াল ও ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ করতে হবে এবং ‘স্পেশাল ক্লাস’র নামে মাত্রাতিরিক্ত বেতন আদায় বন্ধ করতে হবে।
এসব দাবি না মানলে আগামী ১৩ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে স্মারকলিপি পেশ ও ১৭ জানুয়ারি স্কুল প্রাঙ্গনে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট পালনের আল্টিমেটাম দিয়েছে অভিভাবক ফোরাম।
এছাড়া আরো চারটি দাবি করে দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে অভিভাবক ফোরাম। দাবিগুলো হলো, যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অধ্যক্ষ নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি বা গভর্নিং বোর্ডের নিয়মিত নির্বাচন দেওয়া, শিক্ষার মানোন্নয়ে অযোগ্য শিক্ষকদের ছাঁটাই করে সব শাখায় ও মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া এবং স্কুলের সব অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
শামিমা সুলাতানা অভিযোগ করেন, গতকয়েক বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে শিক্ষার মান ও পরিবেশ। দক্ষ শিক্ষকের অভাবে মানসম্মত পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ পদটি শূন্য থাকলেও কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ না দিয়ে, কর্তৃপক্ষের আজ্ঞাবহ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে পতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, গত বছরের ২২ অক্টোবর থেকে সরকারিভাবে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকলেও, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিধি বহির্ভূতভাবে ৬০জন শিক্ষক নিয়োগ দেন অধ্যক্ষ। শিক্ষক নিবন্ধন সনদ না থাকা সত্বেও ২০১৩ সালে ৪২ জনকে প্রভাষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বার্ষিক তিনশ থেকে শুরু করে এক হাজার আটশ টাকা পর্যন্ত তথ্য-প্রযুক্তি(আইটি) খাতে চার্জ নেওয়া হয়। অথচ প্রযুক্তিগত কোনো সুবিধা দেওয়া হয় না।
অভিভাবকরা জানান, নয় হাজার তিনশ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে দুই কোটি ৭৯লাখ টাকা ফি আদায় করা হয়। কিন্তু এই টাকা কোন খাতে কীভাবে খরচ হয় তা জানেন না অভিভাবকরা। কোচিং নিষিদ্ধ করা হলেও ‘স্পেশাল ক্লাস’র নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক বেতনের সমপরিমাণ আদায় করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন, সাইফুদ্দিন বাবু, আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান, রেহেনা আক্তার শিরিন, আঞ্জুমানা আলমসহ শতাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এর আগে বিদ্যালয় থেকে অভিভাবকরা ভিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস