কতটুকু যৌক্তিক
আপডেট: ২০১৬-০১-১২ ১৮:৪৩:৩৬

রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়, যা জাতি গড়ার করিগর। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কান্ডারী, সরকারকে নিয়ে যত যৌক্তিকতা, অযৌক্তিতা বিবেচনা করতে হচ্ছে গোটা জাতিকে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও সরকারের সমাধানের পদক্ষেপ কততুকু যৌক্তিক তা জাতির কাছে পরিস্কার। যা শিক্ষিত সমাজের বুঝে আসে না।
এক. বৈষম্যমূলক ৮ম পে স্কেলের প্রতিবাদ ও শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে স্কেলসহ পাচ দফা দাবিতে যখন পূর্ণ কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন, তখন প্রধানমন্ত্রির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদেরকে বিসিএস ক্যাডার অফিসার হওয়ার পরামর্শ দেওয়া কতটুকু যৌক্তিক। (প্রধাণমন্ত্রির ভাষণ)
দুই. বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের সর্বনিম্ন যোগ্যতা বিসিএস ক্যাডার হওয়া আবশ্যক তা আইন প্রণয়ন করে শিক্ষিত সমাজের জন্য উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করা। তা না করে বেতন বাড়ানোর আন্দোলনকে দমন করার জন্য অযৌক্তিক কথা বলা কতটুকু যৌক্তিক।
তিন. ৩৭ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কর্মবিরতি ঘোষনাই বা কতটুকু যৌক্তিক তার কোন হদিস এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আন্দোলন হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু যখন ক্লাস, ফাইনাল পরীক্ষা বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করা হয় তা কতটুকু যৌক্তিক। (প্রথম আলো, ১২/০১/১৬, বাংলানিউজ, ১১/০১/১৬)
চার. শিক্ষকদের একপক্ষ যখন আন্দোলনের নামে গোলামি করে তখন তাদের সম্মান কোথায় থাকে। অতীতে অনেক আন্দোলন হয়েছে, সব আন্দোলনে ফাইনাল পরীক্ষা আওতামুক্ত ছিল। রাজনৈতিক কিছু ধংসাত্বক কর্মকান্ডের চেয়েও ভয়ানক তা যখন শিক্ষিত সমাজ দ্বারা পরিচালিত হয় তা কতটুকু যৌক্তিক।
পাঁচ. কর্মবিরতি ঘোষনায় ফাইনাল পরীক্ষা আওতামুক্ত করা তারই প্রেক্ষাপটে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহন না করা কতটুকু যৌক্তিক। (বাংলানিউজ, ১১/০১/১৬)
ছয়. পাবলিক বিশ্বাবদ্যালয়ের শিক্ষকরা যখন তাদের বেতন বৃদ্ধির জন্য পূর্ণ কর্মবিরতি ঘোষণা করে তা শিক্ষা ব্যবস্থায় অবকাঠামোগত উন্নয়ে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য কতটুকু যৌক্তিক।
সাত. শিক্ষদের দাবি গ্রেড বাড়ানো কিন্তু গ্রেড বাড়ানো আর বেতন বাড়ানো সমান কথা। খোলামেলা বেতন বাড়ানোর দাবিকে তাদের অহেতুক সাধারণ জনগনকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা কতটুকু যৌক্তিক।
অপমানিত হচ্ছে উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা। বাধাগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষাঙ্গন পরিনত হচ্ছে অবহেলিতদের কারখানা। ঘৃণা জন্ম নিচ্ছে উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি। যা উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য হুমকি স্বরুপ।
দু পক্ষই যখন অনড় অবস্থানে মেধাবী শিক্ষার্থীরা তখন তাদের ঋনের বোঝা বাহনের হাতিয়ারে পরিনত। বাঙালী জাতি যেমন অলসপ্রিয় তেমন সংগ্রামী। যা আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত।
মঞ্চে দাড়িয়ে লম্বা লম্বা কথা বললে সব সমস্যা সমাধান হয় না। সমাধান করতে হয়,নিয়ম নীতের ভিতরে, বাহিরে, যৌক্তিকতা কতটুকু বিবেচনা করে। দড়কষাকষি না করে সকল যৌক্তিকতা আমলে নিয়ে সমাধানের মানসিকতা নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













