জনগণ চাইলে বিএনপি অবৈধ হতেও পারে!
আপডেট: ২০১৬-০১-১৩ ২১:১১:৪৬

জনগণ চাইলে বিএনপি অবৈধ হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। আজ বুধবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে বিএনপির নানা অভিযোগের জবাব দিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
দল হিসেবে বিএনপিকে অবৈধ ঘোষণা করা হতে পারে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। জনগণই সব দেশের সব ক্ষমতার মালিক। জনগণ যদি চায় অবৈধ একটি দলকে (বিএনপি) তারা অবৈধ হিসেবে দেখতে তখন জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়তো পরবর্তী সময়ে কেউ করবে।
‘বিএনপি অবৈধ দল হলে আওয়ামী লীগও অবৈধ’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে হানিফ বলেন, এর চেয়ে হাস্যকর উক্তি আর হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী সঠিক কথাই বলেছিলেন বিএনপির জন্ম উর্দি পরে ক্যান্টমেন্টে। জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ যেমন অবৈধ ছিল, তেমনি তার হাতে গড়া দলও অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
আর আওয়ামী লীগের জন্ম ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বাংলাদেশের জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য। মির্জা ফখরুল সাহেব যদি এমন ইতিহাস না জানেন, তাহলে দয়া করে ইতিহাস পড়ে নিন। আওয়ামী লীগ এদেশের গণমানুষের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল ১৯৭১ সালের বহু আগ থেকেই। আ.লীগকে অবৈধ বলার ধৃষ্টতা ভবিষ্যতে বিএনপির কোনো নেতা আর দেখাবেন না বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
‘উন্নয়নের নামে লুটপাট হচ্ছে’ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে হানিফ বলেন, জনগণ জানে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা। কার আমলে লুটপাট হয়েছিল জনগণ জানে। বিএনপির আমলের লুটপাটের টাকা এখনও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনে বসে ভোগ করছেন।
তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না’। আমরা ফখরুল সাহেবের কষ্টের কথা জানি, সেটা বলতে চাই না। নির্বাচনে পরাজয়ের পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার রেওয়াজ বিএনপির বেশ পুরানো সেটা সেটা দেশবাসী জানে। ফখরুল সাহেবরা কী কারণে প্রত্যাশা করেন দেশের জনগণ তাদের ভোট দেবে? মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার কারণে? দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি দখল করার জন্য? নাকি নিজেরা ক্ষমতায় থাকতে যে লুটপাট করেছিল সেটার সুযোগ দেয়ার জন্য জনগণ তাদের ভোট দেবে?
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ফখরুল সাহেব বলেছিলেন ‘বিএনপিতে যত মুক্তিযোদ্ধা আছে আ.লীগে তত আছে কিনা সন্দেহ’ এটা নিয়ে আমরা কিছু বলার নেই। যুদ্ধাপরাধী নিজামী, মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, সাকা চৌধুরী যদি মুক্তিযোদ্ধা হয় তাতে আমাদের কিছু বলার নেই। দেশবাসী জানে কারা মুক্তিযোদ্ধার দল। কারা মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন করছে। কারা পাকিস্তানের মুখপাত্র হিসাবে দেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সম্পর্কে কটাক্ষ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সদস্য এনামুল হক শামীম, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।
সানবিডি/ঢাকা/রাআ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













