
নানা অনিয়মে জর্জরিত ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ৩১ মে সোমবার কোম্পানিটির পর্ষদ পুনর্গঠন করে কোম্পানিতে চিঠি ইস্যু করেছে বিএসইসি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিতীয় কোম্পানি এটি। এর আগে গত ২৯ মার্চ ফারইস্ট ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছিলো বিএসইসি।
যারা আসছেন নতুন পর্ষদে:
বিএসইসি সূত্র মতে, কোম্পানিটিকে নতুনভাবে সাজাতে পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি। তারা হলেন এনসিসি ও মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্সের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন খান, সেনাবাহিনীর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (এলপিআর) আবু সাইদ মোহাম্মদ আলী, ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি ক্রিসেলের উপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন এফসিএমএ, বিআইসিএমের অনুষদ সদস্য মোহাম্মদ সেলিম।
একনজরে নুরুল আমিন: পুনর্গঠন করা পর্ষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন নুরুল আমীন। তিনি ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এনসিসি ব্যাংক) ও মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) এর সাবেক চেয়ারম্যান।
নুরুল আমীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক ও ১৯৭৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে জনতা ব্যাংকে তাঁর চাকরিজীবন শুরু করেন।
প্রসঙ্গত, তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে কানাডায় পলাতাক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার)। এরই মধ্যে চলতি বছরে বেশ কিছু মামলা হয়েছে পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন হিসাবে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের কথা বলা হলেও দুদকের কাছে দেওয়া বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্য থেকে জানা যায়, চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশান্ত কুমার হালদার সরিয়েছেন ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
বিএফইইউর তথ্যমতে, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (এফএএস) থেকে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এছাড়া বাকি তিনটি কোম্পানি হলো পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা, এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সরান পি কে হালদার চক্র।
পিকে হালদার নিজে ও তার নিকটাত্মীয়স্বজনের নামে ও বেনামে নতুন নতুন কোম্পানি খুলে ঋণ বা লিজ নেয়ার মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করেন। ফাস ফাইন্যান্সের ওপর পরিচালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ।
২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে আসা ‘বি’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১১০ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে আছে ২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি আট লাখ ৩৯ হাজার ২৮৪। মোট শেয়ারের মধ্যে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের হাতে, ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক, এবং ৭৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে।