এসআই মাসুদ বরখাস্ত

প্রকাশ: ২০১৬-০১-১৬ ২১:৩৪:৪১


thereport24-1বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে নির্যাতনের ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ শিকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তাকে শনিবার বরখাস্ত করা হয় বলে জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মারুফ হোসেন সরদার।

তিনি জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এসআই মাসুদ শিকদারের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৯ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরে এসআই মাসুদের নির্যাতনের শিকার হন বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগাযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী।

রাব্বী অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই দিন রাতে আমি মোহাম্মদপুরের খালার বাসা থেকে কল্যাণপুর নিজ বাসায় যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে এক পুলিশ সদস্য আমার শার্টের কলার ধরে বলেন, ‘‘তোর কাছে ইয়াবা আছে।’’ আমি অস্বীকার করলে ওই পুলিশ আমাকে ধরে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ শিকদারের কাছে নিয়ে যান।’

রাব্বী আরও বলেন, ‘তখন এসআই মাসুদও বলেন, ‘তার কাছে ইয়াবা আছে।’’ আবার অস্বীকার করলে এসআই মাসুদসহ পুলিশ সদস্যরা আমাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে জোর করে পুলিশের ভ্যানে তোলা হয়। সেখানে মারধরও করা হয়। থানায় নেওয়ার পর আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও দাবি করে পুলিশ।’

পরদিন (রবিবার) ১০ জানুয়ারি সকালে এসআই মাসুদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন গোলাম রাব্বী। কিন্তু ওই সময় অভিযোগ অস্বীকার করেন এসআই মাসুদ। পরদিন সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করে।

এরপর ১৩ জানুয়ারি গোলাম রাব্বীকে নির্যাতনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মহাপুলিশ পরির্দশক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হকের কাছে চিঠি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

ওই চিঠিতে গভর্নর বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন। নিজের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও নির্যাতনের শিকার হওয়া দুঃখজনক।’ এ ঘটনার পর শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাই নয়, দেশের কোনো মানুষই যেন পুলিশের নির্যাতনের শিকার না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান গভর্নর।

এর দুই দিন পর ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী নির্যাতনের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ। পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ব্যারিস্টার মো. হারুন-অর রশিদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটিতে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন পুলিশ পরিদর্শক রয়েছেন।

তদন্ত কমিটি গঠনের একদিন পরই এসআই মাসুদ শিকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

সানবিডি/ঢাকা/রাঅা