নারায়ণগঞ্জে দুই শিশুসহ পাঁচজন খুন
আপডেট: ২০১৬-০১-১৭ ১০:৩৮:০৫

নারায়ণগঞ্জের দুই নম্বর বাবুরাইল এলাকায় দুই শিশুসহ পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা কীভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনার পরপরই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার, র্যাব-১১-এর সিওসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। নিহতদের মাথায় আঘাত করে বা জবাই করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নগরীর দুই নম্বর বাবুরাইলের প্রবাসী ইসমাইলের পাঁচতলা বাড়ির একতলার পূর্ব দিকের ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পাঁচজনের একজন তাসলিমা (৪০)। তাসলিমার ননদ হাজেরা জানান, নিহতরা হচ্ছে- তার ভাবি তাছলিমা, তাসলিমার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), তাসলিমার ভাই মোরশেদুল (২৫), তাছলিমার দেবরের স্ত্রী লামিয়া (২৫)।
নিহতের খালাতো বোন নয়নতারা জানান, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার ভেলাবাড়ি গ্রামে তাসলিমাদের বাড়ি। তার বাবার নাম বারেক মিয়া। গত শুক্রবার বিকেলে তাসলিমার ভাই মোরশেদুল তাসলিমার বাড়িতে বেড়াতে আসে। রাতে বেশ কয়েকবার ফোন করেও তাসলিমার মা মুর্শিদা বেগম মোরশেদুল বা তাছলিমাকে পাচ্ছিলেন না।
শনিবার সকালে মুর্শিদা বেগম নারায়ণগঞ্জে থাকা তাদের আত্মীয়দের ফোন করে জানায়, মোরশেদুল ও তাসলিমা ফোন ধরছে না। তিনি বাসায় গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। দুপুরের পরে আত্মীয়দের কয়েকজন ওই বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখে ফিরে আসেন। সন্ধায় ওই ঘর থেকে গন্ধ বের হলে এলাকাবাসী আত্মীয়দের ও পুলিশকে খবর দেয়। রাত আটটায় পুলিশ এসে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। ভেতরে বিছানায় ছেলে শান্ত, নিচে সুমাইয়াসহ অন্যদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
একতলার পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা রহিমা খাতুন জানান, আগের রাত ১০টা পর্যন্ত তারা তাসলিমাদের ফ্ল্যাটে মানুষের আসা যাওয়ার শব্দ, কথাবার্তার শব্দ শুনেছেন। নিহত তাসলিমার খালাতো বোন নয়নতারার স্বামী মোহাম্মদ মিলন জানান, নিহত মোরশেদুল ইসলামের সঙ্গে সুদের টাকা নিয়ে ঢাকার একটি পক্ষের বিরোধ ছিলো। সে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
নিহত তাসলিমা ও মোরশেদুলের মা মুর্শিদা বেগমের সঙ্গে ঢাকার একটি পক্ষের বিরোধ ছিলো। তবে কী নিয়ে বিরোধ ছিলো তা তিনি বলতে পারছেন না। এ নিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
নিহত তাসলিমার স্বামীর নাম শফিকুল ইসলাম। তিনি ঢাকায় প্রাইভেট গাড়ির চালক। তিনি পলাতক না কর্মস্থলে রয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, র্যাব-১১-এর সিও আনোয়ার লতিফ খানসহ পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন। যে ফ্ল্যাটে ঘটনা ঘটেছে সেখানে পুলিশ, র্যাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অন্য কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পুলিশের কোনো কর্মকর্তা এ নিউজ লেখা পর্যন্ত বক্তব্য দেননি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলর ওবায়েদ উল্লাহ জানান, এক কক্ষে দুইটি অন্য কক্ষে তিনটি লাশ দেখতে পেয়েছি। প্রতিটি লাশ রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। জবাই করে বা মাথায় আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ জালাল জানান, আমরা পাঁচটি লাশ উদ্ধার করেছি। কী কারনে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এ মূহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে।







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













