
দেশের পর্যটন খাতকে শিল্প খাত হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেলস্ ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন। একইসঙ্গে ফেডারেশনটির সঙ্গে যুক্তদের শ্রমিক হিসেবে ঘোষণা, মজুরি কাঠামো প্রণয়ন এবং করোনায় পর্যটনের সঙ্গে যুক্তদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুরক্ষা সামগ্রী ও টিকা দেওয়ারও দাবি জানায়।
শনিবার (১২ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেলস্ ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন আয়োজিত 'বাজেট ভাবনা: করোনাকালে বিপর্যস্ত পর্যটন খাত এবং পর্যটন শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের সুরক্ষায় করণীয়' শীর্ষক এক আলোচনা সভার বক্তারা এ দাবি জানান।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে আমাদের দেশে পর্যটক এসেছেন। কেউ কেউ ভালোবেসে স্থায়ীভাবে থেকেও গেছেন। এভাবে পর্যটনের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছি এবং টিকে আছি। অথচ এই পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীদের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাদের সামান্য পরিমাণ ভাতার জন্য লড়াই করতে হয়।
তারা বলেন, পর্যটনকে অনেকেই শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে চান না। অথচ গুরুত্ব বিবেচনায় এই খাতকে শিল্প হিসেবে যুক্ত করার সময় এসেছে। শ্রম আইনে শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাগে যুক্ত করা আছে। পর্যটন শ্রমিকদেরও একই আইনে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করার প্রয়োজন। তাদের গ্রেডভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ প্রয়োজন। আর এসব দাবি আদায় করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে আওয়াজ তুলতে হবে।
রাষ্ট্রকে পর্যটন কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, গার্মেন্টস, তাদের বায়ার, এনজিও এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কনসালটেন্টরা দেশে আসছে, কাজের বাইরে তারা ঘুরতে চাইছে এবং বিদেশি ডলার খরচ করছে। এক্ষেত্রে পর্যটনের লোকেরা দেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। অথচ এ খাত থেকে দেশ হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করলেও পর্যটনের সঙ্গে যুক্তদের চেহারায় অপ্রাপ্তির ছায়া দেখতে পাই। পর্যটন খাতকে আরও উন্নত করতে এর সঙ্গে যুক্ত সবার প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন রয়েছে। তাই পর্যটন নিয়ে যে অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা ধরে রাখতে হবে।
সানবিডি/এএ