

স্বায়ত্তশাসিত ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজই এই প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে। সংকট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষকদের কাছে তাদের দাবির পক্ষে প্রস্তাব চেয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা এ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছেন।
জানা গেছে, গত দুই দিন একাধিক বৈঠকে বসে এ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেন শিক্ষকরা। আজ সকালেও এটি নিয়ে বৈঠক হয়েছে তাদের মধ্যে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র অধ্যাপকদের মধ্যে ১২ শতাংশকে সিনিয়র সচিবের সমান এবং ২৫ শতাংশ অধ্যাপককে গ্রেড-১ দেয়ার প্রস্তাব করবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।
বর্তমানে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক আছেন ১৪ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে অধ্যাপক আছেন প্রায় চার হাজার ২০০। তবে সিনিয়র অধ্যাপক বা গ্রেড-১ ভুক্ত শিক্ষক আছেন ৮২৩ জন। তাদের ১২ শতাংশকে সিনিয়র সচিবের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়া হবে। শিক্ষকদের প্রস্তাব গৃহীত হলে সিনিয়র সচিবের সমান সুবিধা দিতে হবে ৯৯ জন অধ্যাপককে।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ জানান, “শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কাছে দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে। গত দুই দিন আমরা শিক্ষকরা বসে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করেছি। আজ রবিবার বিকালের কোনো এক সময় এই প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেয়া হবে।”
অধ্যাপকদের একটি অংশকে সিনিয়র সচিবের সমান সুবিধা দেয়াসহ ৫ দফা দাবিতে ১১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ৩৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কর্মবিরতির কর্মসূচি আজ সপ্তম দিন অতিক্রম করছে। কিন্তু শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তবে ১২ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয় ফেডারেশনের নেতাদের। ওই দিনই তিনি শিক্ষকদের কাছে তাদের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চান।
এদিকে গত ছয় দিনের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিত পরিসরে পরীক্ষা হচ্ছে। আর কোথাও ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না। এ সংকট কবে নাগাদ কাটবে, তা পরিষ্কার নয় বলে শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে হল ছাড়তে শুরু করেছেন।
সানবিডি/ঢাকা/আহো