সোনালী ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম প্রদীপ কুমার শর্মার বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া পরিচয়ে ব্যাংকে ৩০ বছর চাকরি
নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২১-০৬-২২ ২০:৫৬:০৩

বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদে চাকরি নেওয়া সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ফরেন রেমিট্যান্স ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের সাবেক ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রদীপ কুমার শর্মার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুন) মহানগর দায়রা জজ আদালতে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আরিফ সাদেক।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি প্রদীপ কুমার শর্মা (৬৫), ১৯৮৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন। সে সময় সাধারণ প্রার্থীর চাকরিতে যোগদানের সর্বোচ্চ বয়স সীমার উল্লেখ ছিল ২৭ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থীদের বয়স ছিল ৩০ বছর। অথচ ওই তারিখে তার বয়স ছিল ২৯ বছর চার মাস ২৯ দিন।
২০১৪ সালের ৩০ জুন প্রদীপ কুমার শর্মা চাকরি থেকে অবসর নেন। ২০১৯ সালে ২৭ জুলাই তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকায় প্রদীপ কুমার শর্মার নাম নেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্বাক্ষরিত সনদ রেজিস্টার, গেজেট, মুক্তিবার্তা (লালবই) ও ভারতীয় তালিকায়ও (কল্যাণ ট্রাস্ট) মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম নেই তার। সাময়িক সনদের পরিবর্তে মূল সনদ সংগ্রহ করার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রদীপ কুমার শর্মা তা সংগ্রহ করেননি।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ১০ জুলাই ১৯৮৪ তারিখ থেকে ৩০ জুন ২০১৮ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক লিমিটেড থেকে বেতন বাবদ ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৭৯৪ টাকা; এছাড়া উৎসব বোনাস, উৎসাহ বোনাস, এক্সগ্রেসিয়া, কর্মচারী গৃহনির্মাণ ও কম্পিউটার ঋণসহ সর্বমোট ১ কোটি ৩১ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৩ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে চাকরিজীবন শেষ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মানমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছেন। এছাড়া জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে বেতন-ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭৭-ক এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।
সানবিডি/এএ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













