স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পরাধীনতার শিকল ভেঙে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। স্বাধীনতা অর্জনের অমর কৃতিত্ব লাভে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সব অর্জনের সঙ্গে বয়োজ্যেষ্ঠ দলটির অবদান পাহাড়সম।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শোষিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াই, ডাল-ভাতের নিশ্চয়তা দিতে রাজপথই ছিলো দলটির সমাধান। পাকিস্তানি স্বৈরশাসক, স্বাধীনতা-পরবর্তী পাকিস্তানি দোসরদের আগ্রাসন, সময়ে সময়ে পথহারা গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারে সব সময় জনগণের দাবির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জন্ম নেয়া আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল। এরপর রোজ গার্ডেন থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পর্যন্ত দীর্ঘ পথচলায় শুধুই সংগ্রাম আর ঐতিহ্যের গল্প। স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু যখন দেশ গড়ার পথে, ঠিক সেই সময়ে ৭৫-এর ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতির পিতাকে। প্রবাসে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। আবারো উল্টোপথে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। অনিশ্চয়তায় পড়ে গোটা জাতির ভবিষ্যৎ। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন নির্বাসনে। কঠিন সময়ে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন জোহরা তাজউদ্দিন।
১৯৮১ সালে চরম দুঃসময়ে পিতার আবেগ-ভালোবাসা মেশানো দলটির হাল ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। ফিরে আসেন দেশে। দেশে ফিরে ভোট-ভাতের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামেন শেখ হাসিনা। শত নির্যাতনেও দমেননি তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে আওয়ামী লীগ। চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে দলটি। পথে পথে আকাশচুম্বি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ আর অগ্রগতির নতুন মাইলফলকে এনেছেন বাংলাদেশকে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুকরণীয় নেতৃত্বে খাদ্য নিরাপত্তা, শান্তি চুক্তি, সমুদ্র বিজয়, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, কৃষি, অবকাঠোমা উন্নয়ন, শান্তি সূচক, স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য এসেছে। উন্নয়নমুখী অর্থনীতি নিয়ে কাজ করার ফলে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এখন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অদম্যগতিতে এগিয়ে চলছে।
পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা হলেও দীর্ঘ একুশ বছর লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ। এরপর ২৩ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নবম জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ২০০৯ সালের ৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে সরকার। এরপর ২০১৪ সালে এবং ২০১৮ সালে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রাষ্ট্রক্ষমতায় টানা ১২ বছর পূর্ণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দিনবদলের সনদ’ নামে নির্বাচনি ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির ইশতেহারের স্লোগান ছিলো ‘শান্তি গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’। এতে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার ঘোষণা দেয়া হয়। প্রতিটি ইশতেহারে গণতন্ত্র, ক্ষমতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদক নির্মূলের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। কথা রেখেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত সাড়ে ১২ বছরে ঈর্ষণীয় সাফল্য কুড়িয়েছে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পাচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিক সেবা, মাথাপিছু আয়, হাতে হাতে মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের বদৌলতে পাল্টে গেছে জীবনমান। বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের শেষ প্রান্তে রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ তিনটি দেশের একটিতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বঙ্গবন্ধুকন্যা, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ও সুদক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়নে গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের ফলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে।
মূলত এ দেশের যত অর্জন, আন্দোলন-সংগ্রাম আর ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে জড়িয়ে আছে দলটির নাম। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে বাংলার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, ১৯২ বছর পর ১৯৪৯ সালের একই দিনে সেই স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে আওয়ামী লীগের পথচলা শুরু। দীর্ঘ দুঃশাসনের পরিক্রমায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর গণতন্ত্রের মানষপুত্র খ্যাত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শামসুল হকের নেতৃত্বে ওইদিন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। জন্মলগ্নে এই দলের নাম ছিলো ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। পথচলা থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ-অসামপ্রদায়িক রাজনীতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ নির্মাণের আদর্শ এবং একটি উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক, প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শনের ভিত্তি রচনা করে আওয়ামী লীগ।
যার প্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে অসামপ্রদায়িক রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস একই সূত্রে গাঁথা। ৪৭-এর দেশ ভাগ, ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬২-র ছাত্র আন্দোলন, ৬৪-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা, ৬৮-র আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন আর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে আওয়ামী লীগই ছিলো মূল ভূমিকায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও দেশের প্রয়োজনে সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল আন্দোলনের সাহসী মিছিলের নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
অসাম্প্রদায়িক আর সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুগে যুগে বহু নেতা তৈরি হয়েছে এই দলে। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা এসব নেতাকে ধীরে ধীরে দল পরিচালনায় অন্তর্ভুক্ত করে সফল হয়েছে আওয়ামী লীগও। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২১টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে আওয়ামী লীগের। তবে এখন পর্যন্ত সভাপতি হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ৯ বার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তিনবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুইবার এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও আবদুল মালেক উকিল একবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন একবার নির্বাচিত হয়েছেন দলের আহ্বায়ক। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ৯ জন। সবচেয়ে বেশি চারবার করে হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিল্লুর রহমান। এছাড়া তাজউদ্দিন আহমেদ তিনবার, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও ওবায়দুল কাদের দুইবার করে, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, আবদুল জলিল একবার করে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই মাতৃভাষা বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করে। ২১ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত হয় জাতীয় ছুটির দিন ‘শহীদ দিবস’। আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি। মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে জনগণের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় সংগঠন গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ খ্যাত কালজয়ী ভাষণ ও পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীন জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে দীর্ঘ ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের রূপকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির স্বতন্ত্র জাতি-রাষ্ট্র ও আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সুমহান ঐতিহ্যের প্রতীক।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্টজনরা মনে করেন, আওয়ামী লীগের অর্জন পাকিস্তান আমলের গণতান্ত্রিক মানুষের অর্জন, এই দলের অর্জন বাংলাদেশের অর্জন। জাতির জন্য যখন যা প্রয়োজন মনে করেছে, সেটি বাস্তবায়ন করেছে এ দলটি।
ইতিহাসবিদ, লেখক ও লোক সাহিত্যিক শামসুজ্জামান খান এই দলকে মূল্যায়ন করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ ‘পাকিস্তান’ নামের অবৈজ্ঞানিক এবং ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিকভাবে এক উদ্ভট রাষ্ট্রের পূর্ববাংলার বাঙালি জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে অবজ্ঞায়, অবহেলায় ও ঔপনিবেশিক কায়দায় শোষণ-পীড়ন-দমন ও ‘দাবিয়ে রাখা’র বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং গণসংগ্রামের মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠা বিপুল জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দল। এই দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অঙ্গীকার দীপ্ত সংগ্রামী ভূমিকা ইতিহাস বিদিত।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, আওয়ামী লীগ বাঙালির আবেগ-অনুভূতি। আওয়ামী লীগ বাঙালির আবেগের সংগঠন। ভালোবাসার সংগঠন। অনুভূতির সংগঠন। আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রায় প্রতিটি পদে বাধা ছিলো। সব বাধা পেরিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়েছেন। এদেশের গণমানুষের আবেগের সংগঠনে পরিণত করেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন পর্যন্ত পরতে পরতে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের হাত ধরে আমরা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেছেন, পাকিস্তান মুসলিম লীগ সরকারের দুঃশাসন, নির্যাতন, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের জন্ম। জন্মলগ্ন থেকেই গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে কাজ করছে আওয়ামী লীগ।
প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাঁকজমকভাবে পালন করা হলেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত বছরের ন্যায় সীমিত আকারে ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে সূর্যোদয়ের সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। ঢাকায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে দলের শীর্ষ নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দলের স্বল্পসংখ্যক সদস্যের প্রতিনিধি দল টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবেন। এদিন বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত নেতাদের উদ্দেশে গণভবন থেকে বিকেল ৫টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভাষণ দেবেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
লেখক: আসাদুজ্জামান আজম