ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার অন্তরায়: কতিপয় পরামর্শ
আপডেট: ২০১৬-০১-১৮ ১৬:১৬:২০

রাষ্ট্রীয় আইন বা রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ দ্বারা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ করাই হল ন্যায়বিচার প্রশাসন। জনজীবনের সার্বিক সুস্থতা, নিরাপত্তা প্রভৃতির সামগ্রিক কল্যাণ নির্ভর কর বিচার প্রশাসনের উপর। রাষ্ট্রের প্রতিটি শাখায় যখন ন্যায়ের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন তা সুশাসন নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে; যা প্রতিটি স্বাধীন দেশের নাগরিক জীবনের প্রথম চাহিদা। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইচ্ছাধীন বিষয়। কারণ; সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথক তেমন কোন ঘাটতি বাজেট বা বৃহৎ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন শুধুমাত্র স্বদিচ্ছা।
আমরা এদেশবাসী সুশাসন লাভের আশায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৭১ সনের বক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বার্বভৌমত্ব পেয়েছি। ফলে আমাদের সংবিধান আছে, জাতীয় সংসদ আছে, তথা স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার সকল উপাদানই আছে। জাতীয় স্বার্থে ইতিমধ্যে আমরা অনেক নতুন নতুন আইন তৈয়ার করেছি। অধ্যাদেশ জারি করেছি, আদালত গঠন করেছি; তথা জাতিকে অনেক সাফল্যের পথে এগিয়ে এনেছি। এর মাঝে স্বাধীনতা লাভের পর চার দশকেরও বেশী সময় গত হয়েছে। কিন্তু সুশাসন বা ন্যায় বিচার প্রশাসন প্রবর্তিত হয়নি। সার্বভৌমত্ব অর্জনের পরের গুরুত্বপূর্ন জাতীয় চাহিদাই ছিল সুশাসন।
বাংলাদেশের সংবিধান এর প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা একটি অংশ নিম্নরূপ; “আমরা আরও অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষনমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে।” অনুরূপভাবে রাষ্ট্রীয় অবস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তৎকালীন রাজনীতিবিদগণ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(২) এর মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, “জনগণের অভিপ্রায়ের পরম আভব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হইবে”
আইনের ছত্রছায়ায় অপরাধী লালন প্রক্রিয়া বহাল রেখে বা ঔপনিবেশিক জনক্ষতিকর আইন বহাল রেখে সুবিচার নিশ্চিত করার কোন সুযোগ নাই স্থীর জেনে বুঝেই তৎকালীন জাতীয় নেতৃবৃন্দ সংবিধানে উল্লেখিত নির্দেশনা বা বাধ্যবাধকতা নির্নয় করেন। কিন্তু ’৭৫ পরবর্তী বর্তমান সরকার ব্যতীত অন্যকোন সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনরূপ স্বদিচ্ছা প্রদর্শন করেননি; বরং চলমান বিচার প্রক্রিয়া বাতিল করতঃ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এমনকি দন্ডিত ভয়ানক অপরাধীদেরকে জেল থেকে খালাস করে মুক্তি দিয়েছেন তৎকালীন সরকার। স্বাধীনতা বিরোধী ছাড়াও আত্মস্বীকৃত খুনীদেরকে সর্বপ্রকার পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানে কুন্ঠিত হন নাই পরবর্তী সরকার। রাজনৈতিক ক্ষেত্র এবং বিচার বিভাগ এভাবেই কলংকিত হয়েছে। তবে অবাক হলেও সত্য যে, এই কলংক সৃষ্টিকারীদের মাঝেও কতিপয় মানুষেরা আদর্শ দেখতে পাচ্ছেন???
দেশবাসীর কাংখিত সুশাসন, সাংবিধানিক অঙ্গীকারের সুশাসন, জাতীয় জীবনের সকল স্তরে টেকসই উন্নয়নের ধারক সুশাসন কোথায় কত দুরে? আজও স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে সুশাসন প্রবর্তন না হওয়ার কারন কি? গত চার দশক ধরে বাংলাদেশ কি কোন বিদেশী লর্ড শাসন করে আসছেন? তাতো নয়। এদশের স্বনামধন্য রাজনীবিদগনই পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের এম.পি, মন্ত্রী ও রাষ্টপতির আসন অলংকৃত করে আসছেন। কিন্তু সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বেমালুম ভুলে যান। এদোষটি সম্মানিত রাজনীতিবিদগণের নয়; হতে পারে দোষটি জনগণের। জনগণ সুশাসনের দাবিটা ভুলে যাচ্ছে না কেন? ২২ পরিবারের পরিবর্তে ২২ লক্ষ পরিবার সুখের উচ্চ শিখড়ে বসবাস করুক আর দেশের সিংহভাগ মানুষ তিলে তিলে নির্যাতন ভোগ করুক; এটাইকি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য?
দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ এবং মুক্তিযোদ্ধাগণ একটি মুহুর্তের জন্যও কাংখিত সুশাসনের দাবী ভুলতে পারছেন না। তাইতো নিতান্ত জনতার গ্যালারী থেকে বিশাল রাষ্ট্রীয় জটিলতা নির্নয়ের তথ্য তুলে ধরতে বাধ্য হচ্ছি।
দেশবাসীর জন্য একটি সুখবরই বলতে হবে যে, ইতিমধ্যে বিচার বিভাগ পৃথক করার বিষয়টি চুড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ন্যায় বিচার প্রশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নাগরিক জীবনে কোথায় কতটুকু তৃপ্তিদান করতে পারবে সে বিষয়টি অমীমাংসিত রয়ে যায়। বিচারের দীর্ঘসুত্রতা নাগরিক জীবনকে কতভাবে নাজেহাল করছে তাহা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বুঝতেছেন। বিজ্ঞজনদের মতে সুশাসন নিশ্চিত হলেই বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা নাগরিক অধিকারকে পরিপূর্ণভাবে সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে যাহার দ্বারা দেশের প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনতার স্বাধ ভোগ করতে পারবেন।
আমজনতার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে বর্তমানে জনস্বার্থের পরিপন্থি যে সকল কার্যক্রমগুলি বিদ্যমান রয়েছে তাহা নিম্নরূপঃ
১। জনপ্রতিনিধি সমস্যাঃ
গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপরিচালনা করেন জনপ্রতিনিধিগণ। জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রনেতা; নীতি নির্ধারক। এই জাতীয় সংসদের শতভাগ সম্মানিত সদস্যই দেশ ও জনস্বার্থে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিবেদিত রয়েছেন এমন প্রত্যাশাই দেশবাসীর। কিন্তু বস্তবতা ভিন্ন। নিবেদিত রাজনীতিবিদগণের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। কালে-ভাদ্রে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আবির্ভূত কতিপয় নিবেদিত দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ নিয়ে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসন পূর্ণ হয়না। প্রতিটি নির্বাচনেই সকল আসনে এমপি নির্বাচন হতে হয়। সম্মানিত সংসদ সদস্য জাতীয পর্যায়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ পদ তা কি মুল্যায়নের বিষয় নয়? এই পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা কি শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিক এবং বয়স পঁচিশ হওয়া?
এই পদে কে কিভাবে নির্বাচনের যোগ্য হতে পারেন সে বিষয়টি কি একেবারেই অলক্ষ্যে আগোচরে থাকার বিষয়? বাস্তবতার আলোকে আমরা বিষয়টি পরিপূর্ণ তাচ্ছিল্য ও গণস্বার্থ বিরোধী দেখতে পাচ্ছি। কারন- অশিক্ষিত স্বশিক্ষিত ও দাগী আসামীদের সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহনের সুযোগ রয়েছে। (সংবিধান অনুচ্ছেদ-৬৬) রাজনীতি কুক্ষিগত হচ্ছে টাকাওলাদের কাছে, সে টাকাওয়ালাদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ি; রয়েছে এরশাদ শিকদার ও নুর হোসেনের মত লোকেরাও।
জনস্বার্থে তথা জাতীয় স্বার্থে জনপ্রতিনিধি সমস্যার প্রতিকার পরামর্শ নিম্নরূপ উল্লেখ করা হল। অপরাধমুক্ত সমাজ করতে হলে সর্বাগ্রে জনপ্রতিনিধির নির্মল আকার সৃষ্টি করতে হবে।
ক) অশিক্ষিত স্ব-শিক্ষিত এবং জীবনে নূনতম এক ঘন্টার জন্যও কোন ব্যক্তি দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে চিহ্নিত হলে তাদের জন্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে যোগ্যতা রহিত/বাতিল করাকে গনদাবী বিবেচনা করা যেতে পারে।
খ) জাতীয সংসদ নির্বাচনের নূন্যতম যোগ্যতা হিসেবে একটা শিক্ষাস্তর নির্ধারন এবং পূর্বাহ্নেই বি,সি,এস স্তরের অনুরূপ একটি যোগ্যতা অর্জন করার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা যেতে পারে। কাজটি শুরুতে জটিল মনে হলেও পরবর্তী প্রজন্মে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে এবং নিবেদিত জনপ্রতিনিধি সৃষ্টিতে ব্যপক সহায়ক হবে নিঃসন্দেহে।
গ) উপরোল্লিখিত পরামর্শ প্রস্তাবের একটি বিশেষ কারন হলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়গণের দ্বারা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রীমহোদয়কে যথোপযুক্তভাবে পূর্বাহ্নেই তৈরী করা জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্তব্যের আওতাধীন কাজ। সর্বপোরি মাননীয় সংসদ সদস্যদের রয়েছে বিচারক অভিসংশন করার ক্ষমতা। একজন দাগী আসামী, স্বশিক্ষিত বা অশিক্ষিত ব্যক্তি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেই কি দোষমুক্ত হয়ে যায়? চলমান এই প্রথা জনক্ষতিকর; ইহা রহিতযোগ্য। না হলে এক সময় নির্বাচিত সদস্যগণের শতভাগ খুন মামলার আসামীদের মাধ্যথেকেও হতে পারবে। ইতিমধ্যে ৩৮ জন মেয়র খুনের আসামীদের তালিকায় আছেন।
২। আইন দ্বারা ভূমিদস্যূ তৈয়ার করাঃ
চলমান তামাদি আইন-১৯০৮ অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তিতে অবৈধ দখলদারকে আইন দ্বারা বৈধতা দেওয়ার বিধান প্রচলন আছে।
সম্ভাব্য প্রতিকারঃ স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রকৃত মালিক বা মালিকের ওয়ারিশগণ যত বছর পরে নিজ বৈধ সম্পত্তি দখলের জন্য আসবে তার মালিকানা সত্ত্ব অবৈধ দখলদারের বরাবরে সময়ের অযুহাতে প্রত্যাপর্ন করা সুস্থ নাগরিক জীবনের সহায়ক নয়। জবর দখলদার অপরাধী, আইনের আশ্রয় মালিকানা পেতে পারেনা। ন্যায় বিচার প্রাশাসনের ক্ষেত্রেও নয়। জমি-জমা সংক্রান্ত কোন্দল, মারামারি তথা অযৌক্তিক মামলা বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে উক্ত অযৌক্তিক আইন রহিত/বাতিল যোগ্য। অবৈধ দখলদারকে দখল সত্ব নামে ভূমি দস্যু তৈরীর একটি অপকৌশল মাত্র। এই আইন বা প্রথা কোন বিচারের অংশ হতে পারেনা। এখানে অন্যায় কাজকে আইনী-উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে।
৩। গুরুতর অপরাধে অপরাধী ব্যক্তির জামিন প্রাপ্তী এবং পলাতক হওয়ার সুযোগঃ
চলমান ফৌজদারি কার্যবিধির-১৮৯৮, জামিন বিষয়ক আইন অনুযায়ী অজামিনযোগ্য অপরাধে অপরাধীগণ জামিনেমুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে পলাতক হচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রতিকারঃ ক) জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক আসামীর দুইজন জামিনদার ততদিন কারাভান্তরে আটক থাকবে যতদিনে ঐ পলাতক আসামী পুণরায় গ্রেফতার না হয় বা আদালতে আত্মসমর্পন করে।
খ) পলাতক হওয়ার অপরাধে পৃথক দন্ড ব্যবস্থা প্রবর্তন করে এবিষয় নিরূৎসাহিত করা যেতে পারো।
৪। আসামীর আইনজীবিকে সত্য প্রকাশে আইনগত নিষেধাজ্ঞাঃ
আইনজীবী হলেন বিচার প্রক্রিয়ার হৃৎপিন্ড তুল্য। চলমান জনক্ষতিকর আইনের কারনে অপরাধীরা যে সকল আইনের পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে তার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক আইন হল স্বাক্ষ্য আইন-১৮৭২ এর ১২৬ (২) ধারা। “অপরাধ করলে বিচারের শাস্তি অবধারিত” এই ন্যায়পরায়নতাবোধ ধ্বংসকারী আইন হচ্ছে উক্ত ধারাটি।
সম্ভাব্য প্রতিকারঃ সম্ভাব্য অপরাধী সৃষ্টি হওয়ার পথ সংকুচিত করার লক্ষ্যে উক্ত স্বাক্ষ্য আইন-১৮৭২ এবং ১২৬ (২) ধারাটি রহিত/বাতিল যোগ্য।
৫। পরিকল্পিত অপরাধঃ
সভ্তার বিবর্তনের সাথে সাথে অপরাধও বিভিন্নরূপে আবির্ভূত হচ্ছে। তবে সর্ব অবস্থায়ই অপরাধ দমন করাই আইন বা বিচার প্রক্রিয়ার মূখ্য উদ্দেশ্য; যাহা নাগরিক অধিকার সংরক্ষনের অঙ্গ। স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে কয়েকটি পরিকল্পিত জঘন্য অপরাধ সংগঠিত হলেও “পরিকল্পিত অপরাধ” দমনের উদ্দেশ্যে পৃথক কোন প্রযোজ্য কৌশলী ব্যবস্থা গৃহীত হয় নাই। যেমন হয়েছে, “নারী ও শিশু নির্যাতন আইন,” সন্ত্রাস দমন আইন” প্রভৃতি। সংগঠিত পরিকল্পিত অপরাধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য “বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার হত্যা”, “জেল হত্যা” “জিয়া হত্যা” “বিডিআর হত্যা” শেয়ার বাজার কারসাজি”, “ব্যাংকের টাকা লুটপাট”, “বরিশালে পুলিশের ঘুষ তহবিল” এবং অতি সাম্প্রতিক “নারয়ণগঞ্জের ৭ খুন”। এক্ষেত্রে দেশের সেনা, বিডিআর পুলিশ বাহিনী বা র্যাব সদস্যদের দ্বারা পরিকল্পিত অপরাধ সংগঠিত হওয়ার বিষয়টি অধিক গবেষনার দাবীদার। অতীত ঘটনাগুলো বিশ্লেষন করে পরবর্তী সময়ে আর কোন ব্যক্তি পরিকল্পিত অপরাধে জড়িত হতে দুসাহসী হবেন না এমন কৌশলী অধ্যাদেশ প্রদানের মাধ্যমে একটি সুস্থ অবস্থা নিশ্চিত করা মোটেই অসম্ভব ব্যাপর নয়। অচিরেই পরিকল্পিত অপরাধ দমনের জন্য কৌশলী ব্যবস্থা প্রবর্তন না হলে যেমন সকল উন্নয়নের সাফল্য বিফলে যেতে পারে- তেমনি চলমান অপরাধ প্রবনতার উর্ধগতি সহনীয় পর্যায়ে ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
৬। অপরাধী পুলিশ সদস্যের অপরাধ তদন্তের কাজ অন্য পুলিশ সদস্য দ্বারা সম্পন্ন করাঃ
অপরাধী পুলিশ সদস্যের অপরাধ তদন্তের কাজ অন্য পুলিশ সদস্য দ্বারা সম্পন্ন করার কুফল একাধিকবার প্রমানিত হয়েছে। তাই এপদ্ধতি পরিবর্তনযোগ্য।
৭। দাপ্তরিক দূর্নীতি সমস্যাঃ
প্রজাতন্ত্রের অধীনস্ত পিয়ন থেকে সচিব পর্যন্ত সকলেই জনগনের সেবক। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিভিন্ন দপ্তরে জনগণের হয়রানি ও দূর্নীতির সংখ্যা পর্যায়ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপনিবেশিক জনক্ষতিকর অবকাঠামোর প্রতিটি বিধি-উপবিধি সূক্ষ্ম পর্যালোচনা করে জক্ষতিকর অংশগুলো রহিত করা না হলে প্রজাতন্ত্রের অধীনস্ত কর্মচারী কর্মকর্তাগণ জনগণের সেবক হবেনা কোন দিনই। দাপ্তরিক দুর্নীতি সহনীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখার একমাত্র উপায় হলো কৌশলী কঠোরতা, যাহা চলমান অবকাঠামোর কোন অংশের কার্যক্রমেই পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বিষয়টি যদি সদায়সয় সরকারের শীর্ষস্থানীয় নীতি নির্ধারকদের বোধগম্য না হয় তাহলে আমজনতার কাছে কৌশল নিতে পারেন। যেমন সম্প্রতি জনৈক মানব দরদী ব্যীক্ত শাহজাহানপুর ওয়াসার পাইপের গর্ত থেকে একটি মানব শিশু উদ্ধার করেছিল সম্পূর্ণই নিজ বুদ্ধিমত্তায়। কৌশলী কঠোরতা আরোপ করা হলে দাপ্তরিক দূর্নীতি শতভাগ না হলেও নব্বইভাগ হ্রাস পাবে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে। শুরু হবে ন্যায়-সঙ্গত কাজ করার প্রতিযোগিতা কোন দপ্তরেই হয়রানি নামক পশু খুজে পাওয়া যাবে না। এটি প্রয়োগ করা শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষের ইচ্ছার বিষয়।
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, ব্রিটিশ আইন গভেষক
মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। www.sunbd24.com এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে www.sunbd2424.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













