উদ্বেগ ছড়াচ্ছে আইটিসি
প্রকাশ: ২০১৬-০১-১৯ ১১:১৫:৪৪

সম্প্রতি তালিকাভুক্ত আইটি খাতের কোম্পানি ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালটেন্টস লিমিটেডকে (আইটিসি) নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বাজারে। তালিকাভুক্তির পর থেকেই নানা অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে কোম্পানি ও এর শেয়ার লেনদেন নিয়ে।
এটি পুঁজিবাজারে আসা স্বল্প সংখ্যক কোম্পানির একটি, যেটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পরপরই লোকসানে গিয়েছে। অন্যদিকে প্রথম প্রান্তিকে লোকসান দেখানো এই কোম্পানির শেয়ার নিয়ে শুরু হয়েছে নোংরা খেলা। শেষ পর্যন্ত এটি পুরো বাজারেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশংকা।
এদিকে আইটিসির শেয়ার দরের অস্বাভাবিক উর্ধগতি খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকেও ভাবিয়ে তুলেছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, তারা আইটিসির শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, কোম্পানিটির মৌলভিত্তি এত ভালো হলে সেটি হয়তো অভিহিত মূল্যে আইপিওতে আসতো না, প্রিমিয়াম নিয়েই বাজারে আসার চেষ্টা করতো। বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মাথায় এ বিষয়টি থাকা উচিত।
উল্লেখ, গত ১০ জানুয়ারি দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে আইটিসির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়। অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে আইপিওতে আসা এ কোম্পানির শেয়ার দর প্রথম দিনেই উঠে যায় ৪৭ টাকায়। এর পর থেকে প্রতিদিনই শেয়ারটির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। গতকাল শেয়ারটির লেনদেন ক্লোজ হয় ৭৭ টাকা ৯০ পয়সায়। আজ মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুও হয় শেয়ারটির উর্ধগতি দিয়ে। প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে শেয়ারটির দর বেড়ে ৮৩ টাকা ৪০ পয়সায় উঠে।
আইপিওতে আসার আগের বছরে আইটিসি শেয়ার প্রতি এক টাকা আয় (ইপিএস) দেখিয়েছিল। অন্যদিকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি লোকসান দিয়েছে দশমিক ০৬ পয়সা। মোট লোকসানের পরিমাণ ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিট লোকসান দিয়েছে। অবশ্য আগের বছরও একই প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসান দিয়েছিল। সে বছর লোকসান ছিল ৩ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৪২ পয়সা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশ্লেষক বলেন, শেয়ারের মৌল ভিত্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হলে মূল্য একসময় সমন্বয় হতে (সংশোধন) বাধ্য। মুশকিল হচ্ছে, একটি শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়লে সামগ্রিক বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়ে না। কিন্তু সেটির যখন বড় ধরনের মূল্য সংশোধন শুরু হয় তখন প্রায় ক্ষেত্রে পুরো বাজারেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, আইটিসি মূলত ব্যাংকের এটিএম বুথের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে থাকে। রাতারাতি এর ব্যবসা সম্প্রসারণের কোনো সুযোগ নেই। কোম্পানিটির হাতে এমন কোনো আলাদিনের চেরাগ আসেনি যে তার মুনাফা ফুলেফেপে উঠবে। তাই শেয়ারের বর্তমান মূল্যস্তর নিঃসন্দেহে বিপজ্জনক। বিষয়টি বিএসইসির দেখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিকভাবে একটি লোকসানী কোম্পানির শেয়ারের দর এতোটা বাড়তে পারে না। এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই কোনো না কোনো কারসাজি আছে। বিএসইসি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নিলে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়তে পারেন।
তিনি বলেন, এর আগে আইটি খাতের আরেকটি কোম্পানি আমরা টেকনোলজি নিয়ে এমন নোংরা কারসাজি হয়েছিল। লেনদেন শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে অফার প্রাইসের নিচে নেমে আসা শেয়ারটির দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ৯০ টাকা তোলা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরই তা ৩০ টাকার নিচে নেমে আসে। পরে আর এটি আগের দামের অর্ধেকেও উঠতে পারেনি।
সানবিডি/ঢাকা/আহো







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













