সড়ক সংস্কারে সীমাহীন দুর্নীতি!!

প্রকাশ: ২০১৬-০১-১৯ ১৮:৪১:৫৯


Coxsbazar Road extantion pict-2কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওয়ের সাথে জেলা শহরের দুরত্ব কমে যাওয়া, কৃষি পণ্যের সহজ বাজারজাতকরণ এবং আর্থ সামাজিক অবস্থা ও জীবন জীবিকার ব্যাপক উন্নয়নের লক্ষ্যে খুরুস্কুল ও চৌফলদন্ডির মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খুরুস্কুল-চৌফলদন্ডি-ঈদগাঁও সড়ক নির্মাণের দাবী ছিলো এলাকাবাসীর।

প্রায় ১৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কটি প্রসস্থ ও সংস্কার না থাকায় কাঙ্খিত সুবিধা পাচ্ছিলেন না জেলাবাসী। অবশেষে গত বছর ডিসেম্বর ১০ কোটি ১১লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়। অপরিকল্পিত ভাবে ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে করা হচ্ছে সড়কের কাজ। অনিয়মের কারণে সাব ঠিকাদারের কিছু কাজ ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি।

সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি ২ পার্শ্বে ৪ ফুট করে আট ফুট প্রসস্থকরণসহ সংস্কারের কাজটি ২টি ভাগে ভাগ করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে (দরপত্র নং-৩০৪-৯৫, ১০/১০/২০১৫ইং ) কক্সবাজারের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উদয়ন ও চট্টগ্রামের আবদুল হাকিম জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজটি পান। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে ১০ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্যাদেশে সিলকোট দেওয়ার কথা থাকলেও মানা হচ্ছে না নিয়ম। অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। রোলার করার কথাও মানছে না। ঠিকাদার ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে চলছে এই অনিয়ম।

Coxsbazar Road extantion pict-1কক্সবাজার জেলা কৃষকলীগ সহ-সভাপতি ও খুরুস্কুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও রফিক উদ্দিন, আওয়ামী সমবায় লীগ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার , ৪নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন মিনু, উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি সঞ্জিত চক্রবর্তী, সদর উপজেলা সমবায় লীগ নেতা নুর মোহাম্মদ, ফিরোজ শাহীন সহ অনেকে বলেন, সড়কটি যে পরিমাণ প্রসস্থ করার কথা ছিলো সিডিউল মতে সে পরিমাণ প্রশস্থ করা হচ্ছেনা। সড়কটি প্রশস্থ করতে গিয়ে রাস্তার পার্শ্বে মাটি কেটে খনন করে নিচে ২২ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৪ ফুট করা কথা তাও করছে না। খোয়ার সাথে বালি মেশানোর নিয়ম না থাকলেও এখন বালির সাথে খোয়া মেশানো হচ্ছে।

কাজে এফএম বালি ২/৩ বার দেয়া ও ১২‘শ কেজি ওজনের রুলার গাড়ি ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে তাও নেই। পানি ছিটাচ্ছে না। ৩/১ ইঞ্চি খোয়া দিয়ে রুলার গাড়ি দ্বারা চাপা দিতে হয় ৬ ইঞ্চি ও সাব বেইজ ৬ ইঞ্চি করার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদারের তা মানছে না। গত ৩০ ডিসেম্বর এলাকাবাসি ঠিকাদারের দুর্নীতির ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেন জেলা প্রশাসক বরাবর।

গত শুক্রবার স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা এসব দুই নাম্বারী কাজের প্রতিবাদ করায় বন্ধ রয়েছে সংস্কার কাজ। গত কিছুদিন এলাকাবাসি পাহারা দিয়ে কিছু কাজ আদায় করে নিয়েছেন।

Coxsbazar Road extantion pict-3স্থানীয় প্রভাষক ফিরোজ আহমদ, শিক্ষক মাষ্টার আলী হোসেন, ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, খুরুস্কুল-চৌফলদন্ডি ও ঈদগাঁও সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। কিন্তু যেদিকে ভালো সেদিকে দায়সারা ভাবে কাজ হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে খারাপ জায়গাগুলোতে কাজ না করে বিল উত্তোলন করার চেষ্টা করছে ঠিকাদাররা। যেভাবে ভয়াবহ দুর্নীতি আর অনিয়ম হচ্ছে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার আগেই সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

এই প্রকল্পে খুরুস্কুল ইউনিয়ন অংশে দুর্নীতি অনিয়ম বন্ধ করা না হলে এলাকাবাসি মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের হঠানোর হুশিয়ারী দিয়েছেন।

খুরুস্কুল ইউপি চেয়ারম্যার মাষ্টার আবদু রহিম বলেন, সড়কটি যেহেতু আমার এলাকার। এটার কাজ ভালো ভাবে হোক আমি চাই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম করায় আমি দাড়িয়ে থেকে কাজ আদায় করেছি।

জানতে চাইলে সাব ঠিকাদার বজল আহম্মদ জানান, সড়কটি আরো ২/৩ বছর পরে প্রসস্থকরণের কাজ করতে হতো। সড়কটি যেহেতু বালু মাটির উপর সেহেতু বাজেটে অবশ্যই গাইড ওয়াল, পানি নিস্কাশনের ড্রেন নির্মাণের বরাদ্দ থাকতে হতো। কিন্তু এখানে তা নেই। সিডিউল মতে কাজ হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স উদয়ন কনষ্ট্রাকশনের মালিক ঠিকাদার আবুল কাশেম সিকদার বলেন, টেন্ডার নিয়ে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি টাকার কাজ করে ফেলেছি। সওজ কর্তৃপক্ষ একাজে সন্তুষ্ট। আমাদের শুধু ইটের খোয়া ও বালি দিয়ে প্রসস্থকরণ কাজ চলছে। সড়ক প্রসস্থকরণে গর্ত ভরাট সহ সিডিউল মতো কাজ চলছে। এখানে কোন দুর্নীতি হচ্ছে না, সড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজের তদারকি করছেন। তাই দুর্নীতি করারও কোন সুযোগ নেই।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়া বলেন, এখানে কোন দুর্নীতি হচ্ছে না। কাজ যদি নিম্নমানের হয় তাহলে উচ্চ মানের করার জন্য কোথায় গিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে তা স্থানীয় লোকজনকে দেখিয়ে দিতে বলুন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন জানান, কাজে অনিয়ম হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। যদি তা সঠিক হয় তাহলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকারের উপজেলা শহর উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতায় এ কাজে যে অনিয়ম ও কারচুপি হচ্ছে তা কর্তৃপক্ষের নজর দেয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

সানবিডি/ঢাকা/রাআ