

আসন্ন ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি হবে এক কোটি ২০ লাখের মত। এসব পশুর চামড়া রক্ষনাবেক্ষনের জন্য অতিরিক্ত এক লাখ টন লবন লাগবে বলে জানা গেছে।
সরকারের লবণ শিল্প তদারককারী সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং উৎপাদনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এবার চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত লবন মজুদ করা আছে। তারা বলছেন, সংকট না হলে দামও বাড়বে না লবণের।
লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেন, ‘এখনো লবণের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। করোনার সময় উৎপাদনে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। ফলে দেশে লবণের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। কুরবানির চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য এ বছর লবণ সংকটের কোনো শঙ্কা নেই।’
বিসিকের তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে লবণ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন হয়েছে। চাহিদা ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন এবং বর্তমানের চাহিদার অধিক পরিমাণ লবণ মজুদ থাকায় ঈদুল আজহায় চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে লবণের কোনো সংকট হবে না।
বিসিক জানায়, গত মৌসুমে লবণ মাঠে ক্রুড লবণ উৎপাদন হয়েছে ১৬ লাখ ৫১ হাজার টন। এছাড়া নতুন লবণ আসার পূর্ব পর্যন্ত পুরনো লবণের মজুদ ছিল আরও তিন লাখ ৪৮ হাজার টন। ফলে গত অর্থবছরে মোট লবণের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৯ হাজার টন। এরমধ্যে এখনো (৩০ জুন পর্যন্ত) লবণ মাঠ ও মিল পর্যায়ে লবণের মোট মজুদ ১১ লাখ ৪৫ হাজার টন। এর মধ্যে লবণ মাঠে নয় লাখ ৬০ হাজার টন এবং লবণ মিলে এক লাখ ৮৫ হাজার টন মজুদ রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহায় সম্ভব্য কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা এক কোটি ১৮ লাখ। এরমধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার এবং ছাগল ও ভেড়া ৭২ লাখ ৫৬ হাজার।
চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) মতে, বছরে এক কোটি পাঁচ লাখ পশু জবাই হতে পারে। কুরবানির সময় একটি চক্র লবণের দাম বাড়ানোর ষড়যন্ত্র করে। লবণের দাম বাড়লে চামড়ারও দাম বাড়ে। ফলে সাধারণ মানুষ চামড়ার দাম পায় না। এ বিষয়ে নজর দেয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
এদিকে চলতি মৌসুমের লবণ চাষ এখন শেষ দিকে রয়েছে। দেশের কক্সবাজার জেলা সদরসহ মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া, চকরিয়া উপজেলায় এখন প্রতিদিন গড়ে উৎপাদিত হচ্ছে ২০ হাজার টন লবণ। বন্যা না হলে সেখানে লবণ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন চাষি।
কক্সবাজারে বাণিজ্যিকভাবে লবণ উৎপাদন শুরু হয় ১৯৬০ সালে। সেই থেকে গত ৬০ বছরে ক্রমেই লবণের উৎপাদন বেড়েছে। গত কয়েক বছর উৎপাদন ১৬ থেকে ১৮ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২০১৩ মৌসুমে লবণ উৎপাদন হয়েছিল ১৭ লাখ ৫২ হাজার টন, ২০১৯ সালে ১৮ লাখ টন। যা ছিল লবণ উৎপাদনের সবোর্চ্চ রেকর্ড।
বিসিকের তথ্যমতে, দেশে বছরে লবণের মোট চাহিদা ১৬ লাখ ৬১ হাজার টন। ইতোমধ্যে চাহিদার অতিরিক্ত লবণ উৎপাদিত হয়েছে। গত কয়েক বছর পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণ চাষ বেড়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন লবণ চাষিরা। ফলে দেশের সার্বিক চাহিদায় লবণের কোনো সংকট নেই।
সানবিডি /এন/আই