

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের একাদশে থাকবে চার কিংবা পাঁচটি পরিবর্তন। তবে বদলে যাওয়া দল নিয়েও বাংলাদেশ ধরে রাখতে চায় আগের ফল। বুধবারই মাশরাফি বিন মুর্তজার দল নিশ্চিত করতে চায় সিরিজ জয়।
সিরিজ শুরুর আগে যা ছিল আবহ সঙ্গীত, তৃতীয় ম্যাচে এসে সেটিই যেন মূল প্রতিপাদ্য- পরীক্ষা-নিরীক্ষা! প্রথম দুই ম্যাচে একই একাদশ নিয়ে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই একাদশের পাঁচ জনই হয়ত তৃতীয় ম্যাচে থাকবেন দর্শক হয়ে!
চারটি পরিবর্তন তো অবধারিতই। চোটে ছিটকে গেছেন মুশফিকুর রহিম। আপাতত বিরতি শুভাগত হোমকে পরখ করে নেওয়ার চেষ্টায়। বিশ্রাম পেয়েছেন দুই পেসার আল আমিন হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।
মুস্তাফিজের জায়গায় বিপিএলের চমক আবু হায়দার রনির অভিষেক নিশ্চিত। মুশফিকের বদলে ইমরুল কায়েস ও শুভাগত জায়গায় আরাফাত সানির একাদশে আসাও প্রায় নিশ্চিতই।
একাদশে আরেক পেসারের লড়াইয়ে মনে করা হচ্ছিল এগিয়ে মোহাম্মদ শহীদ। তবে বুধবার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের একটি ঘটনা ইঙ্গিত দিল অন্য কিছুর।
মাঠের এক পাশে বেশ লম্বা সময় ধরেই আলোচনা করছিলেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার, কোচ চন্দ্রিকা হাথুরুসিংহে ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। অনুশীলনের শেষ পর্যায়ে মাঠ থেকে ড্রেসিং রুমে ফিরছিলেন তাসকিন আহমেদ। হঠাৎই তাকে পেছন থেকে ডাকলেন মাশরাফি। তিন জন মিলে কিছু একটা বোঝানো হলো তাসকিনকে। খানিক পর হাথুরুসিংহে আলাদা করে ক্যাচিং অনুশীলন করালেন তরুণ এই পেসারকে। ফিল্ডিংয়ে তাসকিনের দুর্বলতার কথা অনেকেরই জানা।
এই টুকরো টুকরো ছবিগুলো পাশাপাশি সাজালে ভেসে ওঠে একাদশে তাসকিনের ছবিই। সেক্ষেত্রে হয়ত শহীদের টি-টোয়েন্টি অভিষেকের অপেক্ষা অন্তত আরেকটি ম্যাচ বাড়বে।
এই পরিবর্তনগুলো অনুমিত। তবে চমক হতে পারে আরেকটি বদল। গত বছর সব ফরম্যাটে বাংলাদেশের সব ম্যাচ খেলেছেন যিনি, অনেক পরীক্ষার ম্যাচেও সাধারণত যাকে বিশ্রাম দেওয়া হয় না; বুধবার বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে সেই তামিম ইকবালকেও! সত্যিই সেটা হলে আন্তর্জাতিক অভিষেক হবে তরুণ ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেনের। সৌম্যর সঙ্গে তখন ইনিংস শুরু করবেন ইমরুল।
বলা যায়, প্রায় নতুন চেহারার দল নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দলে জায়গা পাওয়াদের ওপর চাপ থাকবে নিজেকে প্রমাণের। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী না হলেও তৃতীয় ম্যাচটি তাই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ একাদশের জন্য হবে দারুণ চ্যালেঞ্জের; মাশরাফির নেতৃত্বের আরেকটি পরীক্ষাও।
সৌম্য সরকার অবশ্য দলে অনেক বদলের পরেও ছন্দপতনের শঙ্কা দেখছেন না। বরং তৃতীয় ম্যাচেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে আশাবাদী এই ওপেনার।
তার ভাষায় “ছন্দ নষ্ট হতে পারে, এমন কিছু আমরা ভাবছিও না। নতুনরা বরং নিজেদের প্রমাণ করতে চাইবে। প্রতি ম্যাচের মতোই জয়ের জন্য মাঠে নামব আমরা। আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলেই জিততে চাই।”
জিম্বাবুয়ে তো চমকের চূড়ান্ত দেখিয়েছে আগের ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ককেই বাইরে রেখে। ১৬ জনের স্কোয়াড থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ধারা ধরে রাখতে পারে তারা এই ম্যাচেও।
অনেক বদলের ম্যাচ যদিও, দিন শেষে তবু বড় হয়ে উঠতে পারে ফল। ম্যাচ জিতলেই সিরিজ জিতে যাবে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে জিতলে টিকে থাকবে সিরিজের উত্তেজনা। মাশরাফিরা অবশ্য এই উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে চাইবেন না।
সানবিডি/ঢাকা/রাআ