করোনার মধ্যেই বেড়ে চলা ডেঙ্গুর তাণ্ডবে এখন দিশেহারা রাজধানীর মানুষ। গত কয়েক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে গতকাল শনিবার (১৭ জুলাই) তা রেকর্ড ভেঙেছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৮০ জনই ঢাকার। চলতি বছরের মধ্যে একদিনে এটাই সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী শনাক্তের রেকর্ড।
পরিস্থিতি এখন এমন ভয়াবহ যে রাজধানীর সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালের কোথাও রোগীর ঠাঁই নেই। হাসপাতালের ওয়ার্ড কেবিন এমনকি সরকারি হাসপাতালের বারান্দাও এখন রোগীতে বোঝাই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিরাজমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে আমরা ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছি। চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাই মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ বছর আর কোনো মাসে এত রোগী পাওয়া যায়নি। শুধু জুলাই মাসেই এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৭৬৭ জন। এদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই ঢাকার।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৩৩৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ঢাকাতেই ৩৩১ জন, বাকি পাঁচজন ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগে। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ১৩৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ছাড়া পেয়েছেন ৮০১ জন। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ২৭১ জনের, যা বছরে মোট শনাক্তের ৬৯ শতাংশ। গত বছরের জুন মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ২০ জনের। সে হিসাবে গত বছরের জুন মাসের তুলনায় এবারের জুন মাসে রোগী বেড়েছে সাড়ে ১৩ গুণ। ২০২০ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জন।
২০১৯ সালেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এর আগের সব বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছিল। সে বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারায়। যদিও সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৭৯। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, ওই বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রফেসর ড. আবুল কালাম আযাদ জানান, তাদের কাছে এখন প্রতিদিন যত রোগী আসেন তার প্রায় ৯০ ভাগই করোনা এবং ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে সব বয়সের মানুষ রয়েছেন। একই কথা জানালেন বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: তাহমিনা। তিনি জানান, প্রতিদিন যত শিশু আসে তার বেশির ভাগেরই ডেঙ্গু উপসর্গ।
সানবিডি/আরএইচ