“সরকারের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়ে গেছে”
আপডেট: ২০১৬-০১-২১ ১০:২৩:৩৩

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “সরকারের নিজেদের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়ে গেছে। অবৈধ ও অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় থাকার কারণে এ কোন্দল শুরু হয়েছে।”
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বুধবার বিকেলে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, এম কে আনোয়ার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেলসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে সমাবেশটির আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপি।
প্রধান বিচারপতির একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রেস কনফারেন্স করে বলেছেন, গতকাল প্রধান বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই সরকারের বৈধতা নেই, পার্লামেন্টের বৈধতা নেই।”
ফখরুল বলেন, “তিনি (মাহবুব) খুব পরিষ্কার করে বলেছেন, যে রায়ের ওপর ভিত্তি করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করা হয়েছিল, সেটি সংবিধানসম্মত নয়। তাই তাদেরকেও সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে জবাবদিহি করতে হবে।”
বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বাণীতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, কোনো কোনো বিচারপতি রায় লিখতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন। আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের দীর্ঘদিন পরও রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধান পরিপন্থী।
বর্তমান সরকারকে অবৈধ ও জনবিচ্ছিন্ন অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। গোটা দেশকে আজ কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। গত দুই বছরে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম, হত্যা করা হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ ভুলে যাইনি। এই ত্যাগ ও রক্তের ধারা গণতন্ত্রের জন্য।”
দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, “তা নাহলে মির্জা আব্বাসের মুক্তি মিলবে না। সোহেলের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার হবে না।”
ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ-বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূইয়া, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মুনির হোসেন, যুবদলের নেতা রফিকুল ইসলাম মজনু, শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ এম এ মালেক, ছাত্রদলের সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা বজলুল বাসিত আনজু, আবদুল কাদের, মকবুল হোসেন টিপু, ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।
সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ ও ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা ইউনুস মৃধা।
সানবিডি/ঢাকা/রাঅা







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













