‘উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির পূর্বশর্ত হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতি এবং সরকারের প্রতি জনসাধারণের আস্থা-এ দুটি বিষয়েই অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বে এবং তারই সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।
উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির এই অদম্য গতিকে ত্বরান্বিত করতে প্রবাসীদের বেশি বেশি বিনিয়োগ করা দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান।
‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার : পটেনশিয়াল অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ বিনিয়োগ-সামিট ২৬ জুলাই সোমবার নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল বার্কলে হোটেলের অ্যাম্পায়ার হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান ছিলেন সম্মানিত অতিথি এবং সামগ্রিক অবস্থার আলোকে নীতি-নির্ধারণী মতামতও ব্যক্ত করেন। দুই পর্বে বিভক্ত এ বিনিয়োগ সামিটের প্রথমেই ছিল বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের নিয়ে আলোচনা। সেই সময়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের বদৌলতে দুর্নীতি অনেকাংশে কমেছে।
সালমান রহমান বলেন, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সকল সূচকেই বাংলাদেশের উন্নয়নের ঘটনাবলির স্বীকৃতি আসছে। এতে প্রবাসীদেরও অশেষ অবদান রয়েছে তা স্বীকার করছি অকপটে। বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বিনিয়োগকারীর জন্য উইন উইন সিচ্যুয়েশন বিরাজ করছে বাংলাদেশে।
তিনি বলেন, কক্সবাজারে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট নির্মাণের মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি মিরসরাইসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হাইটেক পার্ক, শিল্পনগরী স্থাপনের মহাযজ্ঞ চলছে। এসবে ইতিমধ্যেই অনেকে বিনিয়োগে এগিয়ে গেছেন। আর যারা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, ক্যালিফোর্নিয়ার লসএঞ্জেলেস এবং সিলিকন ভ্যালিতেও আরো তিনটি সম্মেলন হবে। এসবে অংশ নিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরাও এসেছেন। নিউইয়র্কের সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে মার্কিন বিনিয়োগকারিরা অংশ নেন।
সামিটে অংশ নেয়া প্রবাসের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারি ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিফ নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং একই মতবাদের সরকার দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকায় উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশের সঙ্গে বিনিয়োগের চমৎকার একটি অবস্থা বিরাজ করছে। নানাবিধ কারণে বিনিয়োজিত অর্থ ফিরিয়ে আনা নিয়েও অনেকের মধ্যে সংশয় ছিল, এখন সেটি কেটে গেছে। লভ্যাংশ ফিরিয়ে আনতে সরকার গ্যারান্টি দিচ্ছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রৌফ তালুকদার, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা, বাণিজ্য সচিব তপনকান্তি ঘোষ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল নজরুল ইসলাম প্রমুখ। এনআরবি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরও ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ, ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিফ, জাকারিয়া মাসুদ জিকো প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে সালমান এফ রহমান বলেন, এই রোড শো’র মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও বেশ কৌতূহল দেখলাম। তিনি প্রবাসের মিডিয়ারও আন্তরিক সহায়তা চেয়েছেন অদম্যগতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের ইতিবাচক ঘটনাবলীর সংবাদ আরও বেশি কভারের জন্যে।
সানবিডি/ এন/ আই