৭৫-এর পা রাখলেন নায়করাজ

প্রকাশ: ২০১৬-০১-২৩ ১১:২৮:১৩


razzak-sunbd24নায়করাজ রাজ্জাক। বাংলা চলচ্চিত্রে এক জীবন্ত কিংবদন্তির নাম। বাংলা চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করা এই রাজার আজ ৭৪তম জন্মবার্ষিকী। অভিনয়ে এখনো সাবলিল এই নায়ক আজ ৭৫-এ পা দিলেন। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করা দু্-একটি ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের পর জহির রায়হানের ‘বেহুলা’য় পূর্ণাঙ্গ নায়ক হিসেবে সুপারহিট। এরপর বাংলা চলচ্চিত্রের এ রোমান্টিক নায়কের আর পেছন ফিরতে হয়নি। নিজে যেমন এগিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পকেও।

জন্মদিনের আয়োজন

বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাকের ৭৫তম জন্মদিন ২৩ জানুয়ারি । জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ছয়শরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এ নায়কের জন্মদিন।

শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) পরিচালক, শিল্পী কলাকুশলিরা কেক কাটবেন। সন্ধ্যার পরে নায়ক রাজের নিজ বাড়িতে থাকছে নানা আয়োজন।

২৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় চ্যানেল আই এর ‘গানে গানে সকাল শুরু’ অনুষ্ঠানে রাজ্জাক অভিনীত চলচ্চিত্রের গান গাইবেন খুরশীদ আলম ও আবদুল জব্বার। সকাল ১১টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে ‘নায়করাজের চার যুগ’। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী এবং পরিচালনা আবদুর রহমান।

দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ‘এবং সিনেমার গান’ অনুষ্ঠানে থাকবে রাজ্জাক অভিনীত চলচ্চিত্রের গান। দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘সিটিসেল তারকা কথন’ অনুষ্ঠানের অতিথি থাকবেন রাজ্জাক। দুপুর আড়াইটায় দেখানো হবে রাজ্জাক অভিনীত ছবি ‘অশিক্ষিত’।

চ্যানেল আই ছাড়া আরও কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল তাকে নিয়ে রয়েছে বিশেষ আয়োজন।

অভিনয়ে …

স্কুলে পড়ার সময় ‘বিদ্রোহ’ নাটক আর কলেজ জীবনে ‘রতন লাল বাঙ্গালি’ ছায়াছবিতে তার প্রথম অভিনয়। ১৯৫৯ সালে বোম্বের ফিল্মালয়ে ভর্তি হন। এরপর কলকাতার ‘পংকতিলক’ এবং ‘শিলালিপি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়।

ঢাকার চলচ্চিত্রে

ঢাকায় এসে যোগাযোগ করেন ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পরিচালক আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে। তিনি রাজ্জাককে ওই সময়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ইকবাল ফিল্মসে চাকরি নিয়ে দেন। পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারী পরিচালক হিসেবে রাজ্জাকের প্রথম ছবি ‘উজালা’। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, ‘আখেরী টেনশন’ ও ‘ডাক বাবু’ ছবিতে তিনটি ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক।

বরেণ্য চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের সহকারী হিসেবেও কাজ করেন তিনি। জহির রায়হানই রাজ্জাককে ‘বেহুলা’ ছবির পূর্ণাঙ্গ নায়কের চরিত্রে অভিনয় করান। ‘বেহুলা’র নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন সুচন্দা। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায় ‘বেহুলা’।

ছবিটি সুপারহিট হলে রাজ্জাক তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পান। ঢাকার চলচ্চিত্র পায় একজন রোমান্টিক নায়ক, যিনি পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পের ত্রাণকর্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

নায়করাজ

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র অবুঝ মন (শাবানা), চোর (শবনম), নাচের পুতুল (শবনম), নীল আকাশের নিচে (কবরী), বড় ভাল লোক ছিল, বেঈমান (কবরী), ময়নামতি (কবরী), মনের মতো মন (কবরী), রংবাজ (কবরী), লাইলি মজনু (ববিতা), সঙ্গীতা (কবরী), জীবন থেকে নেয়া (কবরী) ইত্যাদি।

জাতীয় পুরস্কার ৫ বার

এ পর্যন্ত মোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন রাজ্জাক। ছবিগুলো হলো, কি যে করি (১৯৭৬), অশিক্ষিত (১৯৭৮), বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪) ও যোগাযোগ (১৯৮৮)।

প্রযোজক-পরিচালক

অভিনয়ের পাশাপাশি নায়ক রাজ রাজ্জাক ১৯৭৬ সালে ‘আশঙ্কা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। গড়ে তোলেন প্রযোজনা সংস্থা এমএস প্রোডাকশন। এ পর্যন্ত ২০টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র। সর্বশেষ তিনি ‘আয়না কাহিনী’ ছবিটি নির্মাণ করেন।

পরিবার

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার টালিগঞ্জে নায়ক রাজ রাজ্জাকের জন্ম। প্রকৃত নাম আবদুর রাজ্জাক। টালিগঞ্জের মোল্লা বাড়িতে আকবর হোসেন ও মিনারুন্নেসার কোলে জন্ম তার। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন লক্ষীকে। ১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে পরিবার নিয়ে ঢাকায় আসেন রাজ্জাক। সংসারে তিন পুত্র এবং এক কন্যা সন্তান। মেয়ে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দুই পুত্র বাপ্পারাজ এবং সম্রাট চিত্রনায়ক।