
মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে বাংলাদেশকে ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার ঋণ-সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বর্তমান বাজারদরে টাকার অঙ্কে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ১৫ পয়সা) এই অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা।
অর্থনীতিতে কোভিড-১৯-এর প্রভাব মোকাবিলায় গত ২ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয় আইএমএফ; যা মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) কার্যকর হয়েছে বলে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে।
এই বরাদ্দ থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এই সহায়তা ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নে (রিজার্ভ) জমা হয়েছে। আর সে কারণেই অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে দেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পেরিয়ে সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থান করছে।
আইএমএফ তার সদস্য দেশগুলোকে তারল্য সহায়তা হিসেবে এসডিআর বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এসডিআর হলো- বৈদেশিক মুদ্রায় রিজার্ভ সংরক্ষণের পাঁচটি মুদ্রার একক।
বর্তমানে ওই পাঁচটি মুদ্রা রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে আইএমএফে স্বীকৃত। এসডিআর বাস্কেটে সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৭৩ শতাংশ মজুত রয়েছে ইউএস ডলারে। ইউরোয় আছে ৩০ দশমিক ৯৩ শতাংশ, চায়না ইউয়ানে ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ, জাপানি ইয়েনে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং পাউন্ড রয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
আইএমএফের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এসডিআর ঋণের বার্ষিক সুদের হার হবে দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
গত বছরের মার্চে দেশে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। করোনার প্রভাবে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যায়; অন্যদিকে রপ্তানিও কমে যায়।
সে পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছে ঋণ-সহায়তা চায় বাংলাদেশ। সে অনুরোধে সাড়া দিয়ে ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, এআইআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থা ঋণ-সহায়তা দিয়েছে। আরও দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আইএমএফ বাংলাদেশকে মোটা অঙ্কের ঋণ দিল।
আইএমএফ জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের অর্থনীতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে তারা আরও সহায়তা দেবে। এ ছাড়া এই ঋণ-সহায়তার অর্থ যাতে যথাযথভাবে ব্যবহার হয় তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এএ