সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি: তুরস্কের উপর ‘চটা’ রাশিয়া
প্রকাশ: ২০১৬-০১-২৫ ১৭:০০:৪২

সিরিয়ায় ইসলামী জঙ্গি নাশে জেনেভার দ্বিতীয় মেয়াদের বৈঠক কোনো কাজে আসেনি। আজ বুধবারের বৈঠক নিয়ে অনেকেই আশা দেখছেন, এবারের আলোচনায় হয়তবা ফলপ্রসু হবে; ইসলামী সন্ত্রাসীরা হয়তবা তাদের যুদ্ধ বন্ধ করবে। কিন্তু বিষয়টাকে একটু অন্যভাবে নিচ্ছে রাশিয়া। দেশটি মনে করছে, এ আলোচনাও সিরিয়া সংকট সমাধানে কাজে দেবে না। কারণ সে গুঁড়ে বালি ঢেলে দিচ্ছে তুরস্ক।
সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে সিরিয়া সরকার ও বিভিন্ন গ্রুপের মধ্য আজ সোমবার জেনেভায় বৈঠক হতে যাচ্ছে। এই বৈঠককে সামনে রেখে আইএস জঙ্গিরা তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে বিদ্রোহীরা পাচ্ছে নতুন শক্তি। জঙ্গিরা এখন এই যুদ্ধক্ষেত্রকে তাদের দিকে টেনে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
সিরিয়ায় আঙ্কারার সেনা বৃদ্ধি নিয়ে রাশিয়া উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে তিনি জানান, সিরিয়া সীমান্তে তুরস্কের এই ঘাঁটিগুলো জঙ্গিদের আস্তানা হতে পারে- এটাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জাকারোভা জোর দিয়ে বলেন, সব পক্ষই যখন সিরিয়া সরকার ও জঙ্গি বাহিনীর মধ্যকার এই আলোচনা অর্থবহ হবে বলে আশা করছে, তখন বহিরাগত সেনারা সিরিয়ায় জঙ্গিদের সাহায্য করে যাচ্ছে। তাদের প্রয়োজনে অস্ত্র-সস্ত্রের যোগান দিচ্ছে।
একাধিক সংবাদ মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়া গৃহযুদ্ধের পাঁচ বছর চলছে। বিক্ষোভ থেকে দাঙ্গা, তারপর গৃহযুদ্ধ- রক্তাক্ত পথে চার বছর সাত মাস পাড়ি দিচ্ছে দেশটি। ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ লোকের প্রাণহানি হয়েছে। ৮০ লাখ বাস্তুহীন এবং ৫০ লাখ বিদেশি শরণার্থী হয়েছে।
গৃহযুদ্ধের এই দীর্ঘ সময়ে সিরিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি গরম থাকলেও এখনো কোনো সমাধানে আসা যায়নি। এর মধ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামে জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থানে পরাশক্তির দেশগুলো নড়েচড়ে বসেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সিরিয়ায় রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ অবসানে সমন্বিত চেষ্টা এবং আপস-সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।
সিরিয়াকে অনেক আগে থেকেই অস্ত্র দিয়ে আসছে রাশিয়া। কিন্তু সম্প্রতি সরাসরি দেশটিতে হামলায় অংশ নেয় দেশটি। এদিকে সিরিয়ায় সন্ত্রাসী জঙ্গি নাশে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটে কাজ করছে তুরস্ক। ইরাকে কুর্দি বাহিনী পিকেকের যোদ্ধাদের লক্ষ করে গত জুলাই মাস থেকে বিমান হামলা চালাচ্ছে তুরস্ক। সিরিয়ার বিদ্রোহী জোটকেও সমর্থন করে তারা। যুক্তরাষ্ট্রকে বিমানঘাঁটি ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছে তুরস্ক।
তুরস্ক ও রাশিয়া আলাদা আলাদাভাবে সিরিয়ায় সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযানে নামলেও নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বলবদ রেখেছে। গত বছরের শেষ দিকে তুর্কির সেনাদের রুশ বিমান ভুপাতিত করাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক এখন দা-কুমড়ো। সম্প্রতি তুরস্কের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে পুতিনের প্রশাসন।
সানবিডি/ঢাকা/আহো







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













