
পুরাণবাজারে নির্যাতনে শিশু গৃহপরিচারিকা তানজিলা আক্তারের (১০) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর মডেল থানা পুলিশ রাজরাজশ্বর ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। রাতে নির্যাতন ও লাশ দাফন প্রক্রিয়ায় জড়িত ৩ জনকে আটক করে পুলিশ।
তানজিলা আক্তার পুরাণবাজার মার্চেন্ট একাডেমির ২য় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে পুরাণবাজার নিতাইগঞ্জ এলাকার সুরুজ মহলের নান্টু হাওলাদারের বাসায় কাজ করতো। সদর উপজেলার রাজরাজশ্বর ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার মো. তৈয়ব আলীর মেয়ে তানজিলা।
পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ৩ বছর আগে তানজিলা আক্তারকে লেখাপড়া করার জন্য তার বাবা-মা দূরসম্পর্কের আত্মীয় পুরাণবাজারের নিতাইগঞ্জ নান্টু হাওলাদের স্ত্রী জোসনা বেগমের কাছে দেয়। তারা শিশুটিকে পুরাণবাজার মার্চেন্ট একাডেমিতে ভর্তি করায়। সেইসঙ্গে ওই বাসার কাজ করাতো।
সোমবার মার্চেন্ট একাডেমিতে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান শেষে তানজিলা পুরস্কার নিয়ে বিকেলে বাসায় ফিরে। সন্ধ্যায় গৃহকর্তা নান্টু হাওলাদার শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শ্লীলতাহানি করে। শিশুটি এ ঘটনা নিয়ে বাসার মধ্যে কান্নাকাটি করলে গৃহকর্ত্রী জোসনা বেগম তাকে মারধর করে। একপর্যায় শিশুটি জীবন রক্ষার্থে বাথরুমে গিয়ে লুকিয়ে থাকে। সেখানেই রাতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের ধারণা।
পরে গৃহকর্ত্রী জোসনা বেগম, তার স্বামী নান্টু হাওলাদার, শ্বশুর নুরু হাওলাদার ও আত্মীয় খালেক কুড়ালী গোপনে গভীর রাতে ট্রলারে তানজিলার লাশ তার বাবার বাড়ি রাজরাজেশ্বর এলাকার বাঁশগাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তানজিলা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে তার অভিভাবকের কাছে লাশ দিয়ে তারা চলে আসে।
মঙ্গলবার এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও স্থানীয় কাউন্সিলর মো. আলী মাঝির সহযোগিতায় পুলিশ তানজিলার গ্রামের বাড়ির সন্ধান করে সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ও পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। এ সময় এলাকার শত শত মানুষ এ ঘটনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় গৃহকর্ত্রী জোসনা বেগম, তার বাবা নুরু হাওলাদার ও আত্মীয় খালেক কুড়ালীকে আটক করে পুলিশ।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্য উদঘাটন এবং আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’