মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে গত কয়েক দিনের তুলনায় ইলিশের আমদানি কিছুটা বাড়লেও দাম কমেনি।এ ছাড়া বাজারে আসা বেশিরভাগ ইলিশ পদ্মা নদীর নয়। সেগুলো দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার। অনেক বাজারে এসব ইলিশ পদ্মার বলে বিক্রি করা হচ্ছে।
লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীতে এখন তেমন ইলিশ পাচ্ছে না জেলেরা। মাছ ব্যবসায়ী, জেলে ও মৎস কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা নদীর পানি দূষণ, নদীর নাব্যতা ও স্রোত কমে যাওয়ায় ইলিশের ঝাঁক আগের মতো পদ্মা নদীতে আসে না। তারপরও যেসব ইলিশ পদ্মায় পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো আকারে ছোট।
মুন্সীগঞ্জ সদর বাজারের ক্রেতা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, মিঠা পানির ইলিশ সুস্বাদু। এখানে পাওয়া যাচ্ছে লোনা পানির ইলিশ। দক্ষিণবঙ্গের ইলিশ লোনা পানির। তবে মাছ বড় হওয়ায় আঁশ বড় হয়। খেতেও কিছুটা সুস্বাদু। এখন মোটামুটি ভালো মানের ইলিশ কিনতে প্রতি হালিতে ছয় হাজার টাকা পড়ে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে ছোট-বড় যেসব ইলিশ পাওয়া যায়, সেগুলো দক্ষিণাঞ্চলের দৌলতখাঁ, হাতিয়া ও রাঙাবালী এলাকার নদীর। বহু বছর ধরে এসব এলাকার মাছই পদ্মার ইলিশ বলে বিক্রি করেন তারা।
মাছ ব্যবসায়ী তপন বলেন, মুন্সীগঞ্জের রিকাবীবাজার থেকে পাইকারি দরে মাছ কিনে আনি। ১৭শ’ থেকে ১৮শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ১৩-১৪শ’ টাকা কেজি দরে। ১২-১৩শ’ গ্রামের ইলিশ এক হাজার টাকা কেজি এবং ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
মৎসজীবী সমিতির মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. আমানউল্লাহ জানান, এখন ভরা মৌসুমেও ইলিশ আহরণ কম। জাটকা নিধনের কারণে পদ্মায় ইলিশের উৎপাদন কমে গেছে।
জেলা মৎস কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) টিপু সুলতান বলেন, জেলায় ইলিশের আহরণ কম। মূলত নদী দূষণ ও নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় মুন্সীগঞ্জে ইলিশের আহরণ কমে গেছে।
সানবিডি/এনজে