
বঙ্গবন্ধু ও রবীন্দ্রনাথের ওপর প্রবন্ধ রচনায় অনন্য অবদান রাখায় বাংলা একাডেমি ‘সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫’ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এ বছর সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখায় ১০টি ক্যাটাগরিতে ১১ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে গবেষণা ও বুদ্ধিভিত্তিক চর্চার স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ (২০১২) প্রদান করে। এছাড়া মানবিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের জন্য ভারতের এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণ স্মারক পুরস্কার (২০১১), গরিব মানুষের জন্য কাজ করার সুবাদে ফিলিপাইনের গুসি ফাউন্ডেশন কর্তৃক (২০১৪) ‘গুসি শান্তি পদক, তামাক-বিরোধী আন্দোলনে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ‘ওয়ার্ল্ড নো-টোব্যাকো ডে অ্যাওয়ার্ড-২০১২ সহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সমাজ ও পরিবেশ সচেতন অর্থায়নের কৌশল গ্রহণের জন্য লন্ডন ভিত্তিক ‘দি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’ এর সহযোগী অর্থবিষয়ক সাময়িকী ‘দি ব্যাংকার’ তাকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ‘শ্রেষ্ঠ গভর্নর’(২০১৫) এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাণিজ্য সাময়িকী ‘দি ইমার্জিং মার্কেটস’ ‘এশিয়ার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর’ (২০১৫) নির্বাচিত করে।
ড. আতিউর রহমান ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই প্রচলিত ধারার ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি মানবিক ব্যাংকিং ধারণা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে তিনি গবেষণা ও লেখালেখি করে যাচ্ছেন। উন্নয়ন অর্থনীতি ছাড়াসহ ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে তার অসংখ্য বই পাঠকসমাজে সমাদৃত হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের ওপর লেখা তার অনেক নিবন্ধ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার বিতরণ করবেন।