
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আসন্ন মার্চের কাউন্সিলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তৃতীয়বারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন। এবার নির্বাচিত হলে সৈয়দ আশরাফ ধারাবাহিকভাবে তৃতীয়বার দলে দ্বিতীয় হাই কমান্ডের দায়িত্ব পালন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
সেকেন্ড ইন কমান্ডের এই পদে দলেরও একাধিক হেভিয়েট নেতা চেষ্টা করেছেন। তবে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে আশরাফের ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা, ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও শেখ হাসিনার প্রতি প্রগাঢ় আনুগত্যের জন্যই তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রিবার্ষিক এই কাউন্সিলে পুঙ্খানুপুঙ্খানুরুপে বাছাই করে নেওয়া হবে নতুন নেতৃত্বকে।
আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী কমিটি যা জাতীয় নির্বাহী কমিটি হিসেবে পরিচিত। এই কমিটির সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হবে। দেশের ঐতিহ্যবাহী ও পুরনো রাজনৈতিক দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন মুখকে কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। আর নেতিবাচক ও অসন্তোষ কর্মকান্ডের জন্য অনেকে এবার কমিটি থেকে বাদ পরবেন। ১৯৮০ সাল থেকে শেখ হাসিনা এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বর্তমানে দলটির সভানেত্রী। তার নেতৃত্বে দলটি তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
২০০৯ সালে ১৮তম কাউন্সিলে সৈয়দ আশরাফ প্রথমবারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কথিত ছিল এলজিইডি মন্ত্রণালয় হারানো মধ্য দিয়ে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের পদও হারাতে পারেন। তবে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে তাকে এক সপ্তাহ পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পরে। ওই সময় ওবায়দুল কাদের, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আব্দুর রাজ্জাক ও দীপু মনি সৈয়দ আশরাফের স্থলাভিসিক্ত হওয়ার জন্য দলীয় প্রধানের কাছে ইচ্ছা পোষণ করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
এবারের কাউন্সিলে দলের সিনিয়র নেতা ও উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য স্থান পেতে পারেন। এই তিনজন ও ২০১১ সালে প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক ২০০৭ সালে শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন করতে চাচ্ছিলেন। তারা শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। তবে ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা তাদের ক্ষমা করে মন্ত্রিপরিষদে স্থান করে দেন।
বর্তমানে নীতি নির্ধারনী ফোরামে তিনটি শূন্য পদ আছে। জহুরা তাজউদ্দিন ও আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু আর দল থেকে লতিফ সিদ্দিকি বাদ পরায় এ তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য পদে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবারের কাউন্সিলে স্থান পেতে পারেন। গত বছর ১১ সেপ্টেম্বর নীতি নির্ধারনী ফোরাম ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও কুমিল্লায় আরো তিনটি বিভাগীয় ইউনিট চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হবে।
নীতি নির্ধারনী ফোরামে বর্তমানে ১৬৬ জন সদস্য রয়েছে। ধর্মীয় ও সংখ্যালঘুদের জন্য নতুন পদ অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানা যায়। কেন্দ্রীয় কমিটিতে তারানা হালিম, মেহের আফরোজ চুমকি ও সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলিকে যুক্ত করা হবে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ উল আলম লেনিন বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুনদের স্থান দেওয়া একটি নিয়মিত কর্মকান্ড। আমরা দলীয় সংবিধানে পরিবর্তন আনবো যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। দলের সংবিধানে শুধু সংসদ সদস্যদের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া কথা আছে তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাদের সুযোগ পাবে তাদের বিষয়েও নতুন বিধান চালু করা হবে।
আওয়ামী লীগের ১৯তম কাউন্সিল ২৯ ডিসেম্বর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই কাউন্সিলের মেয়াদ গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। পরবর্তী কাউন্সিল হবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
সানবিডি/ঢাকা/আহো