আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২২-০১-১২ ২০:৪২:২৫

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ভুল ও সঠিকভাবে তথ্য-উপাত্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর ব্যাপারে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আজ বুধবার ( ১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রতিমাসের আমানত ও অ্যাডভান্সের সুদ হার অথবা মুনাফা হারের বিবরণী পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করাসহ নতুন করে ৯টি নির্দেশনায় মানার জন্য বলা হয়েছে।
এই চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিবরণীগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই তথ্য উপাত্তগুলো নির্ভুল হওয়া অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দাখিলকৃত বিবরণী সঠিক ও ত্রুটিমুক্ত করার লক্ষ্যে ৯টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা অবশ্যই পালনীয়।
পাঠানো নির্দেশনাগুলো হলো
১. গ্রাহকের নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় এনবিএফআই-২ ও এনবিএফআই-৩ রিপোর্টিং ফর্ম পূরণ করতে হবে। যা অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফর্ম এর সঙ্গে সংযুক্ত আকারে সংরক্ষণ করতে হবে।
২. প্রতি ত্রৈমাসিক এনবিএফআই-২ (ডিপোজিট) ও এনবিএফআই-৩ ( অ্যাডভান্স) বিবরণী (সামারি সিটসহ ) পরবর্তী মাসের ২০ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আরআইটি মোতাবেক ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে আপলোড করতে হবে।
৩. ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরে অথবা তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তাসহ দুজন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগে ফরওয়ার্ডিং লেটারসহ সামারি সিট (ডিপোজিট ও অ্যাডভান্স) দাখিল করতে হবে।
৪) শাখা ও প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তা দিয়ে অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফর্ম পূরণ এবং উল্লেখিত বিবরণগুলো যথাসময়ে নির্ভুলভাবে দাখিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫) প্রতিমাসের আমানত ও অ্যাডভান্সের সুদ হার অথবা মুনাফা হারের বিবরণী পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আরআইটি মোতাবেক ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে আপলোড করতে হবে।
৬) বাংলাদেশ ব্যাংকে বিবরণী দাখিলের নিমিত্তে নতুন শাখার কার্যক্রম চালু হওয়ার ৭ কর্মদিবসের মধ্যে শাখা করার জন্য আবেদন করতে হবে।
৭) প্রয়োজনে গাইডলাইনস টু ফিল ইন দ্য এনবিএফআই রিটার্নস-১,২,৩ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
৮) প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক শাখাগুলোর তালিকা জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
৯) সরকারি এবং বেসরকারি এনবিএফআইগুলোর ধরন পরিবর্তন অথবা রূপান্তরের ক্ষেত্রে যথার্থ ডকুমেন্টসহ পত্রের মাধ্যমে অবগত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আগের মতো ঋণ দিতে পারছে না। শুধু তাই নয়, দেশের নয়টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতির কারণে সার্বিকভাবে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাত্র পৌনে তিন বছরেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে দ্বিগুণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করার কারণে প্রায় সব প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে সংকটে পড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মোটা অঙ্কের অর্থ আটকে রয়েছে। এগুলোর বিপরীতে কোনও আয় হচ্ছে না। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের রাখা আমানত সময়মতো ফেরত দিতে পারছে না। এ কারণে আগের মতো আর আমানতও আসছে না।
সানবিডি/এনজে







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













