
অমর একুশে বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। বাংলাদেশে হাজারো মেলার মাঝে বইমেলার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটছে মূলত এ মেলাকে কেন্দ্র করে। বাঙালীর ভাষা, সাংস্কৃতি বোধ ও ঐতিহ্য হলো অমর একুশে বই মেলার ভিত্তি। লেখক, পাঠক এবং প্রকাশকদের কাছে অমর একুশে বইমেলা এক সেরা উৎসব। সবারই মিলন মেলা বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বই মেলা। এদেশের সকল শ্রেনীর পাঠক সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে কখন বসবে অমর একুশে বইমেলা কবে বসবে বাঙালীর মিলন মেলা।
অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১২ তম দিনে বইমেলায় উপচে পড়া ভীড় লক্ষ করা গেছে। উপরন্তু আজ শুক্রবার হওয়ায় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুস্তক প্রেমীরা মেলায় এসে মেলাকে পরিণত করেছেন এক বিশাল মিলনমেলায়।
আজ ৩০ টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। মেলায় আজ এসেছিলেন তরুণ সমাজের প্রিয় লেখক ড. মুহঃ জাফর ইকবাল। তার অটোগ্রাফ ও সাথে আলোকচিত্রে একই ফ্রেমে বন্দি হওয়ার জন্যে ব্যাকুল হয়ে ওঠে তরুণ-তরুণীরা।
এছাড়াও মেলায় বাংলা একাডেমির স্টলে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ করা গেছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কে জানার আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। বাংলা একাডেমি অংশের বই মেলার ৮৫ ও ৮৬ নম্বর স্টল “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর” এর। শিশু, বৃদ্ধ ও তুরুণ তরুণীরা আগ্রহ সহকারে এই স্টল প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই ক্রয় করেছেন।
ব্রাক বিশ্বিদ্যালয়ের বি বি এ’র ছাত্র সাফওয়ান আহমেদ “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানঃ জীবন ও রাজনীতি” বইটি ক্রয় করেছেন। তিনি বলেন, “ছাত্র সমাজের জন্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একজন আদর্শ স্বরূপ। তার জীবন দর্শন আমাদের ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা দেয়, মানুষকে ভালবাসতে শেখায়। আর তার রাজনীতির দর্শন আমাদের দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত করার শিক্ষা দেয়। আমি এই বইটি কিনলাম। তরুণ প্রজন্মের সকলের উচিত এই বইটি কিনে তার আদর্শ মত জীবন যাপন করার।মেলায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
বইমেলা শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে। শেষ হবে ২৯ তারিখ। প্রতি রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ১১ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত বইমেলার দরজা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
সানবিডি/ঢাকা/আহো