
দুদকের উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে চাকরিচ্যুতির আদেশ দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
এদিকে দুদক বলছে, ‘অব্যাহতভাবে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করায়’ কমিশনের ‘ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে’ শরীফ উদ্দিনকে নোটিস ছাড়াই চাকরিচ্যুত করতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছে।
দুদকের ওই চাকরিচ্যুতির আদেশে বলা হয়, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৫৪ (২) তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মো. শরীফ উদ্দিন, উপ-সহকারী পরিচালক, দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যক্রম, পটুয়াখালীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো। তিনি বিধি মোতাবেক ৯০ দিনের বেতন এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’ এই আদেশ ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
শরীফ উদ্দিনকে অপসারণের কারণ উল্লেখ করে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দুদক জানায়, আদালতের অনুমোদন ব্যতীত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড কক্সবাজার শাখার একটি ব্যাংক একাউন্টের লেনদেন স্থগিত করেন। বিষয়টি উচ্চ আদালতে প্রমান হওয়ায় তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের বিষয়টি ধরা পড়ে।
দুদক জানায়, কক্সবাজার জেলায় র্যাব কর্তৃক পরিচালিত অপারেশনে জব্দকৃত ৯৩,৬০,১৫০ টাকার চালান রাষ্ট্রীয় কোষাগার অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখেন। পরবর্তীতে বিষয়টি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে দুদকের ভাবমুর্তী ক্ষুন্ন হয়।
দুদক আরও জানায়, চট্টগ্রাম জেলা হতে পটুয়াখালী জেলায় বদলির আদেশ হওয়ার পর বদলির আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রীট দায়ের এবং নির্ধারিত সময়ের এক মাস পরে যোগদানপত্র ই-মেইলে প্রেরণ এবং পরবর্তী এক মাস পরে স্ব-শরীরে নতুন কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া।
এছাড়াও পুরাতন কর্মস্থলের নথিপত্র হস্তান্তর না করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান এবং তৎপরবর্তী আড়াই মাস পরে নথিপত্র হস্তান্তর করা।
এছাড়াও শরীফ উদ্দিন সম্পর্কে দুদক আরও জানায়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার পৃথক ৬ জন ব্যক্তি কর্তৃক উপসহকারী পরিচালক শরিফ উদ্দিন এর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, চাঁদাবাজি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ দাখিল করেন।
এম জি