মহামারিতেও উত্তরাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৩-০১ ২০:২৮:২৯

মহামারি করোনাকালীন পরিস্থিতিতেও দেশের উত্তরাঞ্চলের সমতলে চা বাগান ও ক্ষুদ্র চা চাষ থেকে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে। ২০২১ সালে চায়ের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ১৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন কেজি চা। এরআগের বছর ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। উত্তরাঞ্চলে চা চাষিদের ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলের মাধ্যমে চা আবাদ বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর ৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন কেজি (৪১ শতাংশ) বেশি চা উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে চায়ের তৃতীয় নিলাম বাজার স্থাপনের খবরে জেলার চা বাগান মালিক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে দেশের ১৬৭টি চা বাগান এবং ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান থেকে রেকর্ড পরিমাণ মোট ৯৬.৫০৬ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। যা ২০২০ সালের চেয়ে ১০ দশমিক ১১১ মিলিয়ন কেজি বেশি। ২০২১ সালে চায়ের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
এদিকে পঞ্চগড় জেলায় ২০০০ সাল থেকে চা উৎপাদন শুরু হলেও দীর্ঘ ২২ বছরেও নিলাম বাজার স্থাপন না হওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া, চায়ের দাম ওঠানামা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন চা সংশ্লিষ্টরা। চা চাষের বিপ্লব সৃষ্টিকারী এ জেলায় দীর্ঘদিনেও চায়ের নিলাম বাজার না থাকায় বিপাকে পড়তে হয় চা বাগান মালিকসহ কারখানা মালিকদের।
বাংলাদেশ চা বোর্ড আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, সমতল ভূমিতে চা চাষের জন্য পঞ্চগড় ও এর পাশের জেলাগুলো সম্ভাবনাময় এলাকা। দিন দিন উত্তরাঞ্চলে চা চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর চায়ের আবাদ বাড়ছে। ফলে প্রতিবছর চায়ের উৎপাদনও বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে চাষিদেরকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুল চালু হয়েছে। এছাড়া দুটি পাতা একটি কুড়ি অ্যাপস থেকে পাওয়া যাচ্ছে চায়ের যাবতীয় তথ্য। এছাড়া চা বোর্ডের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতাও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী এবং লালমনিরহাট এই ৫ জেলায় ১০টি নিবন্ধিত ও ১৭টি অনিবন্ধিত বড় চা বাগান (২৫ একরের উপরে) এবং সাত হাজার ৩১০টি ক্ষুদ্র চা বাগান (০ থেকে ২৫ একরের নিচে) রয়েছে। গত দুই দশক থেকে এ অঞ্চলে মোট ১০ হাজার ১৭০ দশমিক ৫৭ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে। জেলায় আরও প্রায় ৪০ হাজার একর জমিতে চা চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এসব চা বাগান থেকে গত ২০২০ সালে পাঁচ কোটি ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৬ কেজি সবুজ চা পাতা উত্তোলন করা হয়েছে। আর এক কোটি তিন লাখ অর্থাৎ ১০.৩০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। যা জাতীয় চা উৎপাদনের মোট ১২ শতাংশ। ২০২০ সালের পর থেকে দেশের অন্যান্য এলাকায় চায়ের উৎপাদন কিছুটা কমলেও উৎপাদন বেড়েছে উত্তরাঞ্চলে। পঞ্চগড়ের ১৭ টি ও ঠাকুরগাঁওয়ের একটি চা কারখানা থেকে এই চা উৎপন্ন হয়েছে।
সানবিডি/এনজে







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













