ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির হয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিত ও অর্থ আত্নসাতের অভিযোগে ধানমন্ডি থানার মামলায় অভিনেতা ও কণ্ঠশিল্পী তাহসান খানের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে ছয় সপ্তাহের হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তাহসান। শুনানি শেষে মুখ্য মহানগর হাকিম রেজাউল করিম চৌধুরী জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
এছাড়া এ মামলায় তাহসান খান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়ার জড়িত থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ। সাক্ষ্যপ্রমাণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। বুধবার অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার এসআই রাজিব হাসান।
এ সময় তিনি বলেন, ইভ্যালির হয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক গ্রাহকের করা মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণে তাহসান, মিথিলা ও ফারিয়াসহ পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাই তাদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। অপরদিকে ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছি।
এর আগে গত বছরের ২১ নভেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয়জনের নামে মামলা করেন সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়া ইভ্যালির বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এবং তাদের বিভিন্ন প্রমোশনাল কথায় আস্থা রেখে বিনিয়োগ করেন তিনি।
এ তারকাদের কারণে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। তাছাড়া ইভ্যালিতে অভিনেতা তাহসান খান শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ছিলেন। আর মিথিলা ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ‘ফেস অব ইভ্যালি লাইফস্টাইল’ হিসেবে। প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন শবনম ফারিয়া।
শুনানি শেষে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ধানমন্ডি থানাকে মামলার অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন- ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল, তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন, আকাশ, আরিফ, তাহের ও মো. আবু তাইশ কায়েস।
সানবিডি/এনজে