
দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (৭ মার্চ) ভয়াবহ দরপতন হয়েছে। ২০২০ সালের পর এতো বড় দরপতন আর দেখা যায়নি। শেয়ারবাজারের এ দরপতনকে ‘অস্বাভাবিক’ বলছেন বিশ্লেষকরা। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পুঁজি করে কোনো চক্র কম দামে শেয়ার কেনার জন্য এ দরপতন ঘটাচ্ছে। এভাবে পুঁজিবাজারে অব্যাহত পতনে বিনিয়োগকারিদের অর্থ কাগজে পরিণত হচ্ছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার (৭ মার্চ) এক দিনে প্রধান সূচক কমেছে ১৮২ পয়েন্ট। যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ। এর আগে ৮ এপ্রিল ২০১৯ এক দিনে সূচকের পতন হয়েছিল ১৮৭ পয়েন্ট।
দিন শেষে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে ৬৬৩ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৫১ কোটি টাক। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৭টি প্রতিষ্ঠানের। দাম কমেছে ৩৬৪টির। এবং ৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এক মাসে সূচক কমেছে ৬৪৪ পয়েন্ট। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন সূচকের পতন হয়েছে ২১.৪৬ পয়েন্ট। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখে দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের অবস্থান ছিল ৭১০০ পয়েন্ট। দিন শেষে এক মাস পর সূচকের অবস্থান ৬৪৫৬ পয়েন্ট।
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বাজার-সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক মন্তব্যের ওপরও আস্থা রাখতে পারছেন না তারা। কারণ পুঁজিবাজারে এর প্রতিফলন নেই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সজিব নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, সংশ্লিষ্টরা বলছেন পুঁজিবাজারে এখন বিনিয়োগ করার সময়। এখানে বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এর উল্টো চিত্র। বাজার ভালো হবে এ আশায় বারবার নতুন বিনিয়োগ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু বাজারে এমন কোনো পরিস্থিতি হয়নি, যার জন্য লাগাতার পতন হতে পারে। মূলত বিনিয়োগকারীরা ভয় পেয়ে পেনিক সেল করছেন, যার প্রভাবে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তাদের শেয়ার বিক্রয় চাপে বাজারে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের মনোগত কারণে পতন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। তাদের আস্থা বাড়লে পুঁজিবাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে সূচকের হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি স্বাভাবিক। পুঁজিবাজারে সূচক হ্রাস-বৃদ্ধি পাবে এটাই নিয়ম। কিন্তু আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা সহজে বিচলিত হন। ফলে পেনিক সেল বেড়ে যায়। তাই পতন নেমে আসে। কোনো কারণে বাজারে পতন নেমে এলে ভীত হয়ে শেয়ার ছেড়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং এ সময় তাদের ধৈর্য্যরে পরিচয় দেয়া উচিত।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সিকিউরিটি হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। এ কারণে কৃত্রিম তারল্য সংকট চলছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন
Sunbd News–ক্যাপিটাল নিউজ–ক্যাপিটাল ভিউজ–স্টক নিউজ–শেয়ারবাজারের খবরা-খবর
এএ