যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন অংশীদারি সংলাপে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাতে পারে বাংলাদেশ। অপরদিকে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুলে থাকা নানা ইস্যু তুলতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। লেহি আইনের শর্তে বাংলাদেশ রাজি কিনা এই মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবে ঢাকার সায় আছে কিনা সেই প্রশ্নও সামনে আসতে পারে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কোয়াডের সঙ্গে সহযোগিতার ধরন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে কথাবার্তা আসাও অস্বাভাবিক নয়। যদিও বাংলাদেশ এমন অনেক ইস্যুতে অস্পষ্টতা বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করতে পারে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৮ম আবর্তের অংশীদারি সংলাপ আগামী ২০ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। সংলাপে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। অংশীদারি সংলাপ নিয়ে ঢাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের আমলে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক, কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসন্ন অংশীদারি সংলাপকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অংশীদারি সংলাপ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আরও দু’টি প্লাটফর্ম রয়েছে। তার একটি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংলাপ অপরটি বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনার জন্য অর্থনৈতিক সংলাপ। তবে অংশীদারি সংলাপে যেহেতু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়ে থাকে; কাজেই এর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সব ইস্যু উত্থাপন সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায় যে, র্যাবের নিষেধাজ্ঞা ইস্যু নতুন। এটি এজেন্ডাভুক্ত করা নিয়ে প্রাক আলোচনা হতে পারে। এজেন্ডাভুক্ত না হলেও এসব ইস্যু উত্থাপন করা সম্ভব। বাংলাদেশ মনে করে, র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করা। ফলে আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সংবাদে বাংলাদেশ বিস্মিত। বাংলাদেশ চায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হোক। কোনো সমস্যা থাকলে দুই দেশ আলোচনা করুক। এটাই সংলাপে বলা হবে। বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের লেহি আইনের অধীনে মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তা পেতে মানবাধিকার সুরক্ষা বাধ্যতামূলক। এই শর্ত দিয়ে একটি ফরমে সই করার জন্য বাংলাদেশকে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত তা সই করেনি বাংলাদেশ। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, শর্তটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সংস্থা হিসাবে র্যাব এবং র্যাবের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
অংশীদারি সংলাপে জলবায়ু পরিবর্তন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সহায়তা, কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, নৌপরিবহণ প্রভৃতি খাতে মার্কিন সহায়তা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা আছে।
সানবিডি/এনজে